কর্ম ও খাদ্য সঙ্কটে শ্রমজীবী মানুষ

তৈয়বুর রহমান : করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে রাজশাহী নগরবাসী ঘরে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এর ফলে কর্মহীন হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। একে কেন্দ্র করে খাদ্য সঙ্কটে পড়ছেন তারা। শ্রমিক মজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ গৃহে আবদ্ধ হয়ে পড়ায় কাজে যেতে পারছেন না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে দারুণ খাদ্য সঙ্কটে জীবন-যাপন করছেন তারা।
করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বাসা-বাড়ির গৃহকর্মীদেরও কাজে আসতে নিষেধ করে দিয়েছেন অনেকেই। এ সম্পর্কে কাজের মেয়ে নাসিমা বলেন, তারা বাড়ির বাইরে বেরুতে না পারায় তাদের কেউ কাজে নিচ্ছে না।
হোম কোয়ারেন্টাইন আতঙ্কে নগরীর রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা। মানুষ চলাচল নেই বললেই চলে। ফলে যাত্রীর অভাবে অটো চালিয়েও প্রয়োজনীয় আয় করতে পারছেন না অটোচালকেরা। অটোচালক শহিদুল হক বলেন, একদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর খবরদারি আরেক দিকে যাত্রীর অভাবে আটো চালকদের করুণ অবস্থা। এতে তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আগে প্রতি দিনের ৮শ টাকার স্থলে এখন দেড় শ টাকায় নেমে এসছে। এছাড়াও নগরীতে কয়েক হাজার অটোরিকশা চালক রয়েছে। সেগুলোর অবস্থাও ভাল না। এর ফলে অটোরিকশা চালকরা তা চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। এর সাথে রয়েছে নগরীর ঠেলাগাড়ি, বিভিন্ন দোকানের কর্মচারিসহ কয়েক হাজার শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছে।
নগরীর নির্মাণাধীন একটি ভবনের মালিক কাজ বন্ধ করে দেয়ায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। রডমিস্ত্রি কালু বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে হোম কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে এতে অনেক রাজমিস্ত্রি কাজে আসতে পারছেন না।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি শরিফ বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে সকল ওয়েল্ডিং কারখানা বন্ধ। এতে রাজশাহীর শতশত ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ও শ্রমিক কাজ করতে পারছেন না। এতে শতশত শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নগরীর খেটে খাওয়া মানুষ। এর সাথে রাজশাহীর অধিকাংশ বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এতে শতশত মানুষ কাজ করে জীবিকানির্বাহ করে থাকেন। ঐসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজশাহীর কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন জীবনযাপন করছেন।
এ সম্পর্কে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অ্যাড. ফেরদৌস জামিল টুটুল, সাবেক সহ-সভাপতি আসলাম আলী, রাজশাহী জেলা নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা নেতা রিয়াজ উদ্দিন করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে যারা বেকার জীবনযাপন করছেন তাদের অবিলম্বে সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজশাহী মহানগরীর গরিব ও দু:স্থ মানুষের সাহায্যার্থে ৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০ ওয়ার্ডে ২ টন করে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নিজস্ব তহবিল থেকে নগরীর ২০ হাজার গরিব দুস্থ মানুষের জন্য শুকনো খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শর্টলিংকঃ