কর্মজীবী-শ্রমজীবী নারীদের সংখ্যা বাড়ছে, নিশ্চয়তা বাড়ছে কি?

  • 5
    Shares

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বাড়ছে দৃশ্যমানভাবেই। এই নগরীতেও কর্মজীবী-শ্রমজীবী নারীদের দেখা মেলে সর্বত্রই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যাই বেশি। সংখ্যা বেশি হলেও তাদের সুযোগ-সুবিধা-নিশ্চয়তা বেশি বলা যাবে না। বরং নারীরা বৈষম্যের, বঞ্চনার শিকার হয়েই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

এখানকার রেশম ও পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের ৭৫ ভাগই নারী। কাজের প্রতি মনোযোগ ও আন্তরিকতাই সংখ্যাবৃদ্ধির কারণ। অফিস-আদালত, দোকান-শোরুম সর্বত্রই নারীদের দেখা মেলে। কর্মঠ হিসেবেই নারীদের মূল্যায়ন করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের ৮০ ভাগই নারী। এ চিত্র দেশব্যাপীই। গৃহকর্ম থেকে শুরু করে স্বনিয়োজিত দোকান, নির্মাণ কাজ, কৃষি কাজেও নারীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মত।

রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকান ঘরে কালাই রুটির ব্যবসা রাজশাহীতে জনপ্রিয় আগে থেকেই। এখানেও নারীরাই সংখ্যাধিক। দোকানদারি, মাটিকাটা শ্রমিক, ট্রাকের হেলপারি, রাস্তা নির্র্মাণের মত কৃষি কাজেও নারীরা সমানতালে কাজ করছেন। এসব কাজে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করলেও নারীদের মজুরি কম। আবার তার ওপরও ভাগ বসায় মধ্যসত্বভোগী।

কায়িক শ্রমের বিভিন্ন পেশায় শ্রমিক সরবরাহকারী এই দালাল চক্র বেশ সক্রিয়। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর মত তারা গ্রামীণ নারীদের শহরে কাজ জুটিয়ে দিয়ে বখরা নেয়। এর সঠিক হিসাব জানা না থাকলেও এর ফলে যে শ্রমজীবী নারীরা বঞ্চিত হয় সেটা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া শ্রমজীবী নারীদের জন্য আইনসম্মত সুযোগ-সুবিধার বালাই কমই। শহরে সংগঠিতদের যতটা নিশ্চয়তা অসংগঠিতদের ততটাই অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন। শ্রম আইনের সীমার বাইরেই এখনও দেশের অসংগঠিত নারী শ্রমিক।

তাই সংখ্যা বাড়লেও নারী শ্রমিকরা আইনসম্মত মজুরি, সুযোগ-সুবিধার ধারে কাছে যেতে পারেন না। তাদেরকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হলে এদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া আর্থ-সামাজিক বৈষম্য কমে আসার চিন্তা করা যায় না। কর্মজীবী-শ্রমজীবী নারীদের নিশ্চিত জীবনের জন্য আশু করণীয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ