করোনা মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

 দেশে এখন একদিনে এক থেকে দেড় হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। ৪২ টি কেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শনাক্তের পরিমাণও বাড়ছে। এতে অবশ্যই কারোনা মোকাবিলার শক্তিও বাড়ছে। শনাক্ত হওয়া রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করে নিরাপদ হেফাজতে রাখা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ কমে আসার কথা। পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য রাজশাহীতে আরেকটি ল্যাব চালু হওয়া তাই নিঃসন্দেহে খুশির খবর।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চালু হওয়া এই ল্যাবেও অন্যটির মতো এক সঙ্গে ৯৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব । দুই শিফটে এখানেও ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষা শুরু হলে রাজশাহী বিভাগে করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে সন্দেহ নেই।

নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংক্রমণ বিস্তার রোধে নেয়া কঠোর ব্যবস্থাও প্রশংসার দাবিদার। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সৃষ্টি হওয়া জনসমাগম করোনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তোলার আগেই লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা গেলে তা হবে সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

ঈদ উদযাপনে মানুষের আগ্রহ পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। কেনাকাটা ও গ্রামের বাড়িতে ফেরার জন্য দলে দলে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই প্রশাসনকে কঠোর হতে হয়েছে। এর ফলও পাওয়া গেছে। ভিড়ে আক্রান্ত রাজশাহী নগরী একদিনেই এখন প্রায় ফাঁকা ।

করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় এবারের ঈদ হবে ভিন্ন ধরনের। কর্মস্থলেই ঘরে থেকে ঈদ করার কথা বলা হয়েছে। চিরাচরিত পন্থায় আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদ করতে যাওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে হবে বিপদজনক। এতে করে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাছাড়া ঈদের কেনাকাটা সীমিত রেখে গরিব-অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়াই হবে মানবিকতার বড় পরিচয়।

আসুন, করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে আমরা আরও মানবিক ও কঠোর হই। শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির অবনতি ঠেকিয়ে রাখা যে সম্ভব নয়, সেটা এখন পরিষ্কার। তাই করোনা মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ