করোনা পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছে

  • 10
    Shares

মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সাদা চোখেই দেখা যায়। কিন্তু এর মধ্যেই যে ফাঁক-ফোকড় প্রচুর সেটা করোনা পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লেজেগোবরে অবস্থা পরিবর্তনের তাগিদ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় সংসদেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চালু হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যবস্থার বিকাশ ঘটিয়ে তৃণমূলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা গেলে আজকের পরিস্থিতি দেখতে হতো না। করোনা পরিস্থিতিতেও মাস্ক, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির মধ্যে বাজেটে করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই টাকা যে বালিশ-পর্দা কাণ্ডের মতো অপব্যবহার হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায় ?

আশপাশের দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে আমাদের বাজেট বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জনস্বাস্থ্যখাত যথাযথ মূল্যায়ন পেলে পরিস্থিতি এতটা ভঙ্গুর হতো না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাস্থ্য খাতকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন সংবিধানেই তার প্রতিফলন রয়েছে। সে অনুযায়ী বাজেট প্রণীত হলে করোনা আক্রমণে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এমন বরাদ্দ দেখা যেত না। ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বলা হলেও প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২৯ হাজার কোটি টাকা। দুই বিদেশি সাহায্য প্রকল্প বাদ দিলে যা ২৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। এমন গুরুত্বহীনতার কারণেই করোনা সংক্রমণ শুরুর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় আজ পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুসরণ করাও সম্ভব হয়নি ভুল সিদ্ধান্ত ও সক্ষমতার অভাবে। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতেও অবহেলা করা হয়েছে। ফলে নমুনা পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ায় এখন পরিস্থিতির পেছনে ছুটতে হচ্ছে। এমন অবস্থা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের তাগিদকেই বড় করে তুলেছে।

করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের বেহাল অবস্থার মতো লকডাউন ঘোষণা ও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন রাজশাহীর এই সংসদ সদস্য। লকডাউন কার্যকরে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি সামাজিক শক্তির সম্পৃক্ততাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।

বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্যখাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিদ্যমান অব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাই তুলে ধরেছেন এমপি বাদশা। সৃষ্ট বাস্তবতা পরিবর্তনের তাগিদকেই যে বড় করে তুলেছে, এ নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ কোথায়!

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ