করোনা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ জরুরি

  • 7
    Shares

তিন সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে। গত মঙ্গলবার একদিনে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২১২ জন করোনা রোগী যা ৫৭ দিনে সর্বোচ্চ। সেই সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু একদিনে সর্বোচ্চ। নতুন রোগী বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কারোনা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। শীতে সংক্রমণ বাড়বে, এখন আর মুখের কথা বা হুঁশিয়ারি নয়, বাস্তবেই বাড়তে শুরু করেছে। বিষয়টিকে অগ্নিকাণ্ডের সাথে তুলনা করে তারা বলেছেন, আগুন পুরোপুরি নেভানো না গেলে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠার আশঙ্কা থেকেই যায়। দেশের অবস্থা এখন তেমনই।

এখানে করোনা সংক্রমণ কখনই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শনাক্তের হার ওঠা-নামা করেছে মাত্র। মৃত্যুর হারও তেমনই। এর মধ্যে সব কিছু ঢিলে-ঢালা হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যেও সতর্কতা হারিয়ে গেছে। করোনার চেয়ে অন্য রোগে মৃত্যুর অতিরিক্ত হার মানুষকে উদাসীন করে তুলেছে। অর্থনীতির স্বার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে ওঠার সুযোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও দারুণভাবে কমে গেছে। এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

এজন্য সরকার ও জনসাধারণ, দুই দিক থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষিত, সামর্থবানদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করার পাশাপাশি গরিব, প্রান্তিক মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার বিকল্প নেই। জীবন-জীবিকার টানাটানিতে লিপ্ত এসব মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে প্রয়োজনে বিনামূল্যে মাস্ক, পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যাবে না। নইলে নীরবে করোনার বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়টি অগ্নিকাণ্ডের মতই বিপদজনক। পুরোপুরি না নেভা পর্যন্ত অবহেলার সুযোগ নেই। সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া করোনা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব বলেই মনে হয়।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ