করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

  • 2
    Shares

দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। শনাক্ত ও মৃত্যুর বেকর্ড হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের গতি প্রবল শুরু থেকেই। তাই করোনা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও বাস্তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীনতা সর্বত্র। সরকারি ১৮ দফা নিদের্শনা মানার ক্ষেত্রেও গাফিলতি দৃশ্যমান। যতটা বলা হচ্ছে তার অল্পই বাস্তবায়িত হচ্ছে। করোনা সংক্রমণে প্রাথমিক শর্ত রোগী শনাক্ত করা ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া। এ ক্ষেত্রে যেমন তেমনি শনাক্তদের সুচিকিৎসার ব্যাপারেও পরিকল্পিত পদক্ষেপের অভাব দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর ভিড় যে ভাবে বাড়ছে তাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেসামাল হবার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরাই।

জনবল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি জনসচেতনতার অভাবও কোনো অংশে কম নয়। জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নের সার্বিক চিত্রই এটা প্রমাণ করে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা থাকলেও সর্বত্র তা মানা হচ্ছে না। অথচ ৬০ ভাগ ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। একই সাথে পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী বাহনের অভাবে যাত্রী ভোগান্তি চরমে উঠেছে। নমুনা পরীক্ষা, রোগীদের চিকিৎসা, টিকা দেয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ সব বিষয়ে দ্রুততার সাথে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। হাট-বাজার, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করা না হলে মানুষের চলাচল কমার আশা করা কঠিন। অর্ধেক জনবল নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত করা গেলেও শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে কীভাবে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে সেটাও পরিষ্কার নয়। ফলে জারিকৃত নির্দেশনার পুরোপুরি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

এই বাস্তবতায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। এ জন্য নেয়া সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ