করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি ও নেয়ার সংখ্যা বাড়াতে হবে

  • 3
    Shares

করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাবে না। তারপরও কমে গেছে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা। বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা জরুরি।

রাজশাহী বিভাগে বরাদ্দের অর্ধেক টিকা প্রয়োগের খবর পত্রিকায় এসেছে। শহরাঞ্চলে টিকা নেয়ার হার বেশি হলেও কম বিশাল গ্রামাঞ্চলে। নিম্নবর্গের মানুষ এখনও করোনার মতই টিকার বিষয়েও উদাসীন, এটা গোপন কিছু নয়।

দেশে টিকার জন্য নিবন্ধন ও দৈনিক টিকা নেয়ার সংখ্যা শুরুতে কম থাকলেও সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় সপ্তাহে দৈনিক টিকা নেয়ার সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, নিবন্ধনকারী আড়াই লাখের কাছাকাছি। অথচ পরবর্তীতে এই সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে খবরে প্রকাশ। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার কথা স্বীকার করেছেন। শহরে আগ্রহীদের নেয়ার পর তাই টিকা নেয়া ও নিবন্ধনের গতি কমে গেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে টিকার বার্তা ও নিবন্ধনের সুযোগ কম থাকাই এর কারণ বলে ধারণা করা যায়।

এর মধ্যেই আগামী ৩০ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা এসেছে এবং তার আগেই সব শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকার আওতায় আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেয়ার কথা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই টিকা দেয়ার প্রস্তুতি ও সক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে কি ?

এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে এসেছে ৯০ লাখ ডোজ টিকা। এর মধ্যেই ৩২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে, নিবন্ধন করেছেন ৪৪ লাখেরও বেশি। এপ্রিলের ৭ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া। তাই এখনই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেয়ার জন্য টিকা আমদানি করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। এর প্রস্তুতির কথা অবশ্য জানা যায়নি।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে টিকা আমদানির পাশাপাশি নিবন্ধনের কাজও বাড়াতে হবে। অনলাইন জটিলতার কারণে শহরের গরিব ও গ্রামের মানুষ এক্ষেত্রে দারুণভাবে পিছিয়ে আছে। তাদের জন্য টিকা নিয়ে পরিকল্পিত প্রচারণা যেমন চালাতে হবে, তেমনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও নিবন্ধনের কাজ শুরু করতে হবে। তাহলেই টিকা নেয়ার সংখ্যা অবধারিতভাবে বেড়ে যাবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ