করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে / জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন

সোনালী ডেস্ক: জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরূল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, গত ডিসেম্বরে ‘করোনাভাইরাস’ কোভিড-১৯ অবির্ভাবের পর বিশে^র ১৮৩টি দেশে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এখন মহামারিতে রূপ নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা । শুরুতে বাংলাদেশে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন এটি বিস্তার লাভ করায় ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ, সমাবেশ আয়োজন থেকে বিরত থাকা, নিজ উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন থাকাসহ নানা স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিকরাও এই ঝুঁকির বাইরে নন। কিন্তু জনগণের জীবনের প্রয়োজনে শ্রমিকরা খাদ্য, ওষুধ, পরিসেবা, পরিবহন, যোগাযোগ, তৈরি পোশাকসহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে এখনো যুক্ত থাকার জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসার জন্য সাহসী ভূমিকা পালন করছেন, এজন্য তাদেরও অভিনন্দন জানান তারা।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের রয়েছে ব্যাপক শ্রমঘন শিল্প। ‘করোনা মুক্ত’ রাখতে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিত জীবাণু ও ভাইরাসমুক্ত রাখার সকল সরঞ্জাম শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্য সরবরাহ করা এবং শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। চাকরি হারাবার ভয়ে আক্রান্ত কোন শ্রমিক চিহ্নিত হলে তাকে সচেতন চিকিৎসা প্রদান ও বিশ্রামে পাঠানো জরুরি। ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনে কারখানা বন্ধ রাখতে হলে শ্রমিকদের মজুরি ও বেতন দিতে হবে। শ্রমিকদের কাজ ও মজুরির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তারা। একই সাথে তারা সামাজিক সুরক্ষার তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানান। আক্রান্ত বিশেষ অঞ্চল বা এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় তাদের যাতে হাট-বাজারে যেতে না হয় তার জন্য বিনা মূল্যে একমাসের চাল-ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও জীবাণুনাশকারী সামগ্রী সররাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহবান জানান।

শর্টলিংকঃ