করোনা আতঙ্কে স্থবির নগরী

তৈয়বুর রহমান: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী নগরী। দোকানপাট প্রায় বন্ধ। ইতোমধ্যে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সকল ধরনের জনসভা, জনসংযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়,কোচিং সেন্টারসহ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল থেকে অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেনাবাহিনী নগরীতে টহল দিচ্ছে।
আন্তঃজেলা বাস চলাচলের সংখ্যাও কমে গেছে। আজ থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হচ্ছে। নগরীতে অটো চলাচল কমে গেছে। যে অটোতে নগরী থাকতো ভরা, যাত্রীর অভাবে তা এখন ফাঁকা। মানুষের চলাচলের অভাবে যাত্রী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে অটোতে যাত্রীতে থাকতো ঠাসা এখন তাতে দুই একজন ছাড়া কোন যাত্রী পাওয়া যায় না। যাত্রী অভাবে কমে গেছে অটোচালকদের আয়। অটোচালক জয় ভাদুড়ী বলেন, আগে এই অটোতে প্রতিদিন আয় করতাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এর ফলে নগরীতে অনেকেই অটো চালানো বন্ধ করে দিয়েছে।
আরডিএ মার্কেট, বস্ত্র মার্কেট, নিউমার্কেটসহ নগরীর সকল হোটেল-রেস্তোরাঁ ও নিত্য প্রয়োজনীয় সকল বিপণন কেন্দ্রে কেনা-কাটা কমে গেছে। নগরীর অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। ভয়ে অনেকে বাজারে আসেন না। সব মিলিয়ে রাজশাহী শহরের এখন শুনসান অবস্থা।
নগরীর সকল বিনোদন কেন্দ্র এখন ফাঁকা। যেখানে প্রতিদিন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো তাও বন্ধ হয়ে গেছে। বিনোদনের জন্য শতশত নরনারী যে কেন্দ্রগুলোতে যেত সেখানে এখন শূন্যতা বিরাজ করছে। পদ্মা গার্ডেনে কোন জনমানব নেই। পিকনিক পয়েন্ট হিসেবে খ্যাত রাজশাহী এএইচএম শহিদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানে নেই কোন পিকনিক পার্টি। উপায়ন্তর না পেয়ে বাড়িতে অলস দিন কাটাচ্ছেন বিনোদনপ্রেমীরা। তারা বাড়িতে প্রচুর চর্চার সুযোগ পেলেও বিনোদনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। অনেকেই বাড়িতে বসে অলস দিন কাটাচ্ছেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের প্রতিটি দেশে এখন ছড়িয়ে পড়েছে। চীন থেকে এর উৎপত্তি হলেও এ ভাইরাস এখন বিশ্বের আতঙ্ক। করোনাভাইরাসে গোটা ইউরোপ তটস্থ। এ ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি দেশ হিমশিম খাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। কোন ওষুধ আবিষ্কার না হওয়ায় এই মুহূর্তে করোনা প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ নিয়ে সরকারসহ সকল মহল থেকে সচেতনতার আহবান জানানো হচ্ছে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্কিত না হয়ে জনসচেতনতার কথা বলা হচ্ছে। এ নিয়ে তা প্রতিরোধে রাজশাহীর মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মাঠে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষ। জেলা প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, জিও-এনজিও, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সবাই এ নিয়ে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, অওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ নগরীর সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজারে সচেতনতা সম্পর্কে লিফলেট বিতরণ করছে। এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণসহ প্রচার মিছিল চলছে।
মসজিদে-মন্দিরে উপাসনালয়ে প্রার্থনা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য বলা হচ্ছে। তারা পাড়া মহল্লায় গিয়ে জনসচেতনতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদের খুতবাতেও সাধারণ মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য এবং মাস্ক ব্যবহার, ঘন ঘন হাতমুখ ধোয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শর্টলিংকঃ