করোনায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে গ্রিন টি!

  • 4
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: গ্রিন টি এক সময় আমজনতার কাছে ছিল অজানা। এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের আবশ্যিক অঙ্গ হয়ে উঠেছে। যে নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রিন টি আমাদের জীবনে জুড়ে গিয়েছে তাতে স্বাস্থ্যবর্ধক পানীয় থেকে চা নান্দনিক মানে উন্নীত হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গ্রিন টি আপনার মন ফুরফুরে করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এর একাধিক উপকারিতা আছে। দুধহীন চায়ের মধ্যে সারা বিশ্বে এটি সব চেয়ে বেশি পান করা হয়। এটি আপনার শরীরের সব টক্সিন বা বিষ বের করে দেয়, সারা দিনের জন্য প্রচুর এনার্জি সঞ্চয় করে রাখে।

গ্রিন টি তৈরি করা হয় যে চা গাছের পাতা বা কুঁড়ি থেকে তার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। আমরা সাধারণত যে চা পান করে থাকি সেই ব্ল্যাক টি কিংবা ওলং টি থেকে গ্রিন টি-র প্রস্তুতপ্রণালী কিছুটা ভিন্ন। গ্রিন টি-কে উইদারিং বা অক্সিডেশন (উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ানো) হয় না। গ্রিন টি সর্বপ্রথম চীনে আবিষ্কৃত হয় এবং ধীরে ধীরে এশিয়ার অন্যান্য দেশের এটি ছড়িয়ে পরে। গ্রিন টি একটি পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত পানীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আশ্চর্যজনক ভাবে দ্রুত কাজ করতে পারে।

গ্রিন-টি মূলত তৈরি করা হয় ফার্মেনটেশন ছাড়া যাতে এর সবুজ রং অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রথমে চা পাতাকে আংশিক শুকানো হয়, তারপর বাষ্পায়িত করা হয়, এরপর শুকিয়ে নেওয়া হয় এবং সবশেষে তাপ দিয়ে গ্রিন-টি তৈরি করা হয়।

গ্রিন টি বিশ্বের অন্যতম উপকারী পানীয়। এটি পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। বিশেষত ওজন হ্রাস করতে ইচ্ছুক যারা, তাদের জন্য গ্রিন টি একটি পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত পানীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আশ্চর্যজনক ভাবে দ্রুত কাজ করতে পারে।

এই পানীয়টি ভিটামিন ই, ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ যা শরীরকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ক্যাটচিনস নামে একটি সক্রিয় উপাদান যা বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

গ্রিন টি-তে উপস্থিত ক্যাটচিনগুলি ফ্যাট বার্ন করতে এবং ব্যায়াম করার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিচিত। এটি বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমওবাড়ায়। এতে কম ক্যালোরি রয়েছে, তাই এটি দিনে ২ থেকে ৩ বারের বেশি খাওয়া যায়।

এটি বিপাকক্রিয়ার হার ও ফ্যাট অক্সিডেশন বৃদ্ধি করে এবং ইনসুলিন প্রক্রিয়াকরণেও উন্নতি করে। গ্রিন টিতে ‘থায়ানাইন’ থাকার কারণে এটি মন এবং শরীরকে শান্ত ও শিথিল করে মানসিক চাপ হ্রাস করতে সহায়তা করে। এটি শরীরে তরল ধরে রাখার চিকিৎসায় সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রিন-টির ভূমিকা অপরিসীম।গ্রিন-টি তে মূলত রয়েছে ফ্লাভোনোয়েড জাতীয় উপাদান যেমন-ক্যাফেইন, থিয়োফাইলিন, থিয়ানিন, ক্যাটেকিন, থিয়ারুবিজিন, ইসেনসিয়াল অয়েল এবং ফেনল জাতীয় যৌগ।

এছাড়াও এতে রয়েছে দ্রবণীয় উপাদান যেমন-অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্লুরাইড, ভিটামিন বি১,বি২, ন্যাচারাল সুগার, পেকটিন, স্যাপোনিন এবং ভিটামিন সি।

অন্যদিকে অদ্রবণীয় উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে-ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, সেলুলোজ এবং ভিটামিন-ই।এই উপাদানগুলো মূলত পাতায় থাকে।এছাড়াও এতে পানির পরিমাণ শতকরা ৭৫-৮০ শতাংশ।

গ্রিন-টি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বক মসৃণ রাখতে এবং বয়োবৃদ্ধি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

গ্রিন-টিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন রয়েছে যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে ও শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরের দুর্বলতা বা অবসন্নতা দূর করে

অ্যাজমা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গ্রিন-টিতে উপস্থিত ফ্লুরাইড ও পলিফেনল দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। দাঁতের ক্যাভিটি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।পরিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে।মুখের প্লাক ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে।

ইসোফ্যাগাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এটি আর্থ্রাইটিস রোগের ঝুঁকি কমায়।অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে। মুখের ব্রন দূর করতে সহায়তা করে।দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্মৃতিশক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফুড পয়জনিং প্রতিরোধ করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।অ্যালঝেইমার ও পারকিনসন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সারা দিনে ২ থেকে ৩ কাপ উষ্ণ গ্রিন টি পান করলে ওজন কমে এবং বিপাকক্রিয়া বাড়ে। স্বাদ এবং প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে আপনি সবুজ, কালো, সাদা এবং ওলং চা-সহ বিভিন্ন ধরনের গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।

বিশেষ করে মনে রাখা দরকার ফ্যাট বার্ন করতে গ্রিন টি সহায়ক ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে শারীরিক অনুশীলন এবং সঠিক ডায়েটও ফ্যাট কম করতে এবং আপনার সামগ্রিক ফিটনেস বজায় রাখতে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ