করোনায় দেশে আরেকজনের মৃত্যু নতুন করে চারজনসহ আক্রান্ত ২৪

সোনালী ডেস্ক: বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত আরও একজন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন আরও চারজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সত্তরোর্ধ্ব এই ব্যক্তি বিদেশ ফেরত স্বজনের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ নিয়ে নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়াল। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪।
বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিন জন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেয়ের মাধ্যমে তার দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। সেটাই ছিল বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু। এরপর কয়েক দফায় গত শুক্রবার নাগাদ দেশে মোট ২০ জন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ে। তারা কেউ বিদেশ ফেরত, কেউ তাদের স্বজন।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে নতুন মৃত্যুর খবর জানান, এক্ষেত্রেও বিদেশ ফেরতের মাধ্যমেই ঘটেছে সংক্রমণ। তিনি বলেন, ওই লোকের বয়স সত্তরের বেশি। বিদেশে থাকে এমন স্বজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন। ঢাকার একটি এলাকায় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার বাড়ির সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি ১৯ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে শনাক্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিদেশ ফেরত সবাইকে হোমে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ৫০ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর বিদেশফেরতদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি বলেন, মার্চের ১ তারিখের পর বিদেশফেরতদের তালিকা তথ্য বিমানবন্দর থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে। যারা পালিয়ে আছেন তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে তালিকা সারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আমাদের কাছে তথ্য দেন নাই, আত্মগোপন করেছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে নেয়ার জন্য।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীন থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তবে এটি এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় চীন সফল হয়েছে। তাদের আভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কাজ করবো। করোনাভাইরাস মেকাবিলা করবো। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে (নতুন ভবন) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ এ ভাইরাসকে গুরুত্বসহ নেইনি বলেই তাদের অবস্থা এখন খুব খারাপ। যারা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে যেমন: কোরিয়া, তাইওয়ান তারা কিন্তু তুলানামূলক ভালো আছে। আমরাও আমাদের সীমিত সম্পদ নিয়ে দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। এরপরও আমরা ভালো আছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা আরও একটা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। সেট হচ্ছে চীন থেকে কিছু এক্সপার্ট আনার চিন্তভাবনা করছি। চীনের ডাক্তার-নার্স যারা হুয়ানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তাদেরকে এনে আমাদের ডাক্তার নার্সদের যেন ট্রেনিং দিতে পারে। পাশাপাশি তারা আমাদের বিভিন্ন হাসপাতাল দেখে আরও কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। চীন থেকে আর কী সহযোগিতা পাচ্ছি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিপি, টেস্ট কিট, তিন লাখ মাস্কসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তারা দেবে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও দুটি হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। হাসপাতাল দুটি হলো রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল। প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে দুটি হাসপাতালকে গ্রহণ করে রোগীদের উচ্চতর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। ইতোপূর্বে আরো কয়েকটি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইনের জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ি ও টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধান ও ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টাইন করা হবে। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরে পরীক্ষা করা হলেও সেখানে আটটি মেশিনে পরীক্ষা চলছে। নতুন আরো সাতটি মেশিন নিয়ে এসেছি। এগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হবে। তবে রাতারাতি এসব মেশিন স্থাপন করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শর্টলিংকঃ