- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

করোনায় অবহেলা বিপদ বাড়াতে পারে!

দেশে করোনাভাইরাসের এক দিনের পরিসংখ্যানে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মারা গেছেন আরও ৩২ জন, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৬৭ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৫১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী।

এ পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ৯১৩ জন আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৪৭ হাজার ৩৭২ জন। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমার লক্ষণ না থাকলেও সার্বিকভাবে সতর্কতা ও সাবধানতা যে ভাবে কমেছে তাতে উদ্বেগ না জেগে পারে না।

প্রতিবেশী ভারতে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে ওঠার পাশাপাশি নেপালেও দৈনিক সংক্রমণ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। এর মধ্যেই অনেক দেশেই দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের ঢেউ লেগেছে। কোনো কোনো দেশে একই ব্যক্তির দ্বিতীয়বার আক্রান্তের খবরও পাওয়া গেছে। সামনে শীতকাল। এ সময় অ্যাজমা, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের করোনায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। খোদ প্রধানমন্ত্রীও শীতকালের ব্যাপারে সতর্কতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই বিপদের আশঙ্কা কোনোভাবেই অস্বীকার করা না গেলেও বাস্তবে সবকিছু কীভাবে ঢিলেঢালা হয়ে যাচ্ছে সেটা সাদা চোখেই দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় শূন্যের কোঠায়। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন, সব কিছুই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। শুধু করোনা রয়ে গেছে। নমুনা পরীক্ষাও কমে গেছে। পরীক্ষা যদি পর্যাপ্ত হতো তাহলে করোনা পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতো। এ অবস্থায় সতর্কতা কমে যাওয়া বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়া দেশগুলোতে প্রথম ঢেউ কমে যাওয়ার পর অসতর্ক চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানেও স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা উপেক্ষা করা যে আবারও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবে না সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না।

তাই করোনায় অবহেলা বিপদ ডেকে আনার আগেই প্রয়োজনীয় সাবধানতা ও সতর্কতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

সোনালী/এমই