করোনার ভয় নিয়েই নগরীতে টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার: করোনার ছড়িয়ে পড়া রুখতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জনসমাগম। বন্ধ বিনোদনকেন্দ্র। বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানও। কিন্তু ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে রাজশাহী মহানগরীতে এখন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের সামনে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রশাসনকেও।
টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে নগরীতে ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ, ৮০ টাকা লিটারে সয়াবিন তেল এবং ৫০ টাকা দরে ডাল ও চিনি বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এগুলো বিক্রি করা হবে। রমজান উপলক্ষে ১ এপ্রিল থেকে যোগ হবে ছোলা এবং খেজুর। ৩১ মে পর্যন্ত এগুলো বিক্রি করা হবে।
গতকাল শনিবার সকালে নগরীর রানীবাজার ও সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে টিসিবির ডিলারের ট্রাকের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। ক্রেতারা পিঠের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে অপেক্ষা করছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে পুলিশ। অথচ তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেতারা বলেন, তারা এ বিষয়ে অবগত। ভীত। কিন্তু পণ্য কিনতে হবে। তাই ভয় নিয়েই তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তারা বলেন, পেঁয়াজ ট্রাকে ৩৫ টাকা। কিন্তু বাজারে ৭০। এ রকম সব পণ্যেরই দাম বেশি। ন্যায্যমূল্যে পণ্য পেতে ঝুঁকি থাকা সত্বেও তারা দাঁড়িয়েছেন।
পঞ্চাষোর্ধ্ব কুলসুম বেগম বলেন, আমি সবাইকে সরে দাঁড়াতে বলছি। কিন্তু কেউ সরে দাঁড়াচ্ছে না। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আরেক ক্রেতা আব্দুল মতিন বলেন, আমরা করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানি। কিন্তু পণ্য তো কিনতে হবে। আমি নিজে সচেতন হলেও অন্যরা তো সচেতন হচ্ছে না। টিসিবির পণ্য বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন একইরকম ভিড় থাকে।
টিসিবির আঞ্চলিক প্রধান প্রতাপ কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা তো বন্ধ রাখতে পারি না। মানুষ তাদের প্রয়োজনের তাগিদেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, বিষয়টি তিনিও জানেন। তারা একটি উপায় বের করার চেষ্টা করছেন যেন একসঙ্গে কেউ লাইনে দাঁড়াতে না পারেন, আবার পণ্য বিক্রিতেও যেন বিশৃঙ্খলা দেখা না দেয়। বাঁশ দিয়ে ঘিরে এ রকম উদ্যোগ গ্রহণের কথা তারা চিন্তাভাবনা করছেন। আশা করছেন, সমস্যার সমাধান হবে।

শর্টলিংকঃ