করোনার ধাক্কা মানুষ সামলাবে কীভাবে?

  • 1
    Share

করোনায় মহাসঙ্কটে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। আয় কমেছে, কাজ হারিয়েছে অনেকেই কিন্তু খরচ বেড়েছে। রোজা আর ঈদে বেসামাল অবস্থা বিশেষ করে শ্রমজীবী, কর্মজীবীদের। ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা।

দেশে মোট শ্রমশক্তি ৬ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ৮৫ শতাংশেরও বেশি জনশক্তি কর্মরত বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক ও স্বনিয়োজিত খাতে। এদের মজুরি বা বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নেই, নেই নিয়োগপত্র, কর্মঘন্টার বালাই। মালিক বা নিয়োগকর্তার সাথে সমঝোতা করেই চলে এই ৫ কোটিরও বেশি মানুষের জীবিকা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ শতাংশ। করোনার প্রথম ধাক্কাতেই এই সংখ্যা বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে এক জরিপে জানা গেছে। ফলে দেশ প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে পড়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আরও দেড়কোটি মানুষ নতুন করে বেকার হয়ে পড়েছে। দীর্ঘায়িত লক ডাউনের ফলে এই সব মানুষ অর্থ ও খাদ্য সঙ্কটে দিশেহারা অবস্থায়।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে দেশের আর্থসামাজিক সঙ্কটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চলমান করোনায় নতুন করে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ। তবে দেশে দারিদ্র্যের হারই শুধু বাড়েনি, পাশাপাশি কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজারের মতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যেই জানা গেছে, গত বছর শেষে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯০টি।

বিশাল গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরের দরিদ্রদের অবস্থা তুলনামূলক বেশি খারাপ হলেও সবারই সঞ্চয় কমেছে এবং বেড়েছে ঋণের পরিমাণ। দেশের মোট কর্মজীবীদের ৫৯ শতাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েছে যাদের ৪০ শতাংশেরই সামনে কোন কাজ ফিরে পাবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, করোনার ধাক্কায় ঝুঁকিতে পড়া দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের ঘুরে দাঁড়ানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই ধাক্কা মানুষ সামলাবে কীভাবে সেটাই প্রশ্ন। আগামী বাজেটের বিশাল আকৃতিতে এসব মানুষের স্থান কোথায় সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর কি-ই বা করার আছে!

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ