করোনাকালে শিক্ষার কী হবে?

করোনা মহামারিতে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকার ঘোষণা থাকলেও তা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সরকার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অনলাইন শিক্ষা চালু করলেও তা নানা সমস্যায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজে ক্লাস না হওয়ায় বইয়ের সাথে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের অবস্থা অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা ব্যাপকভাবে খেলাধুলা, আড্ডা, টিভি-মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেই নানা ধরনের কাজে যুক্ত হচ্ছে। ফলে ঝরে পড়ার সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগের শেষ নেই।

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে শুরুতে আগ্রহ থাকলেও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং এ প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত না হওয়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমবি খরচ নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে অনেকের পক্ষে। অনেকেই এই প্রযুক্তির সাথে পরিচিত নয়, নেই ইন্টারনেট সংযোগ ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট। এ সব কারণে প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই অনলাইন শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে বলে জানা গেছে।

এমন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা নিয়েও সন্দিহান সকলে। কারণ সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় ছুটি আরও বাড়তে পারে। এমনকি এ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। নতুন বছরে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবার আশা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে। কারণ আসন্ন শীতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে, আসতে পারে দ্বিতীয় ঢেউ, এমন আশঙ্কাই প্রবল।

এ অবস্থায় বাসাবাড়িতে অভিভাবকদের ওপরই শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায় পড়ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাও ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তারা অনলাইনে ক্লাস ও তার বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ঠিক রাখতে সচেষ্ট থাকলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায়। ইন্টারনেট সংযোগ ও এমবি খরচ নিয়েও চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দেখতে পারে।

করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা উন্নত হবে সেটা সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপরেই নির্ভর করছে, এতে সন্দেহ নেই।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ