করোনাকালে মৎস্যখাতের সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞদের ১০ সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের মৎস্যখাতে দেখা দিয়েছে নানা রকম সংকট। এসব সংকট কাটাতে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফিশারিজ বিভাগ আয়োজিত ‘করোনাকালে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় তারা এসব সুপারিশ করেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২০ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাবির ফিশারিজ বিভাগের দুই দিনের কর্মসূচির শেষ দিন গত সোমবার ভার্চ্যুয়াল এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাবির কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সালেহা জেসমিন এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. এম. মনজুরুল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলোক কুমার সাহা।

সভায় উঠে আসা সুপারিশগুলো হচ্ছে- ১. চাষীকে সুলভ মূল্যে মৎস্য খাদ্য সহ মৎস্যচাষ সহায়ক প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ ক্রয়ে ভর্তুকির নিশ্চয়তা প্রদান। ২. চাষীকে উৎপাদিত মাছের বাজারজাত করতে সহায়তা প্রদান। ৩. ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যচাষীকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে পুণরায় মৎস্য চাষে উদ্ভূদ্ধকরণ। ৪. ভোক্তা পর্যায়ে মাছ পৌঁছানোর জন্য মৎস্য বাজারজাতকরণের পদ্ধতিতে আধুনিকায়ন।

৫. ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য অনলাইন বাজারব্যবস্থাকে দেশের সকল স্তরে জনপ্রিয়করণ। ৬. দেশে প্যাকেট জাত মৎস্য দ্রব্য উৎপাদনের জন্য নতুন শিল্প স্থাপন। ৭. চাষী, বাজারজাতকারী, ভোক্তা সকল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূতলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৮. সামুুদ্রিক মৎস্য আহরণসহ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ৯. ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিধান রেখে গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ১০. করোনাসহ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের মৎস্যখাতকে গতিশীল রাখতে মৎস্য খাতের সকল পেশাজীবি পর্যায়ে উপযুক্ত প্রণোদনার বিধান রেখে জাতীয় কর্মপন্থায় নতুন পরিকল্পনা যুক্ত করা।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক, রাজশাহীর পবা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজীদ আলম। এছাড়া সভায় রাবির ফিশারিজ বিভাগের সকল শিক্ষক ও গবেষকসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা অংশ নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

প্রফেসর ড. এবিএম মহসিনের সঞ্চালনায় পরিচালিত এই অনুষ্ঠানে প্রথমেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক প্রফেসর ড. মোহা. আখতার হোসেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে সরকারের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ দেশের অর্থনীতিতে মৎস্যখাতের বিশেষ অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে এই খাতে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, করোনাকালের এই সময়ে মৎস্যচাষী বা মৎস্য আহরণকারী পর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তা, বাজারজাতকারী, এমনকি ফিশারিজ পেশাজীবি পর্যায়েও নেমে এসেছে এক ভয়াল বিপর্যয়। যার ফলে মৎস্য উৎপাদনে সহায়ক সকল উপকরণ এমনকি জনবল প্রাপ্তিতেও তৈরী হয়েছে নানা সংকট ও ঝুঁকি। ফলশ্রুতিতে আগামী বছরে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার যে শঙ্কা তৈরী হয়েছে তা উত্তোরণের জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রস্তাব করেন।

আলোচনা সভার নির্ধারিত আলোচক প্রফেসর ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল, ড. মো. তারিকুল ইসলাম এবং ড. মো. রাশেদুল কবির মন্ডলসহ অন্যান্য আলোচক ও অতিথিবৃন্দ ওই ১০ সুপারিশমালার উপর দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং তারা সুপারিশসমুহের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

আলোচনা শেষে সভার সভাপতি প্রফেসর ড. এম. মনজুুরুল আলম মুজিব শতবর্ষের সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে মৎস্য উৎপাদনে সকল গবেষককে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহবান জানান। পাশাপাশি তিনি সভায় গৃহিত সুপারিশমালার প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ