করোনাকালে অন্যরকম ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ এবং বন্যার মধ্যেই শনিবার (০১ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসব পালনে নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশবাসী। শেষ বেলায় কোরবানির পশুর বাজারে ভিড় বেড়েছে। তবে বেচাবিক্রি অন্য বছরগুলোর তুলনায় কম। আর আনন্দ-উৎসবের একান্ত অনুসঙ্গ পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড়বাট্টা নেই।

প্রতিবছর হিজরি সনের ১০ জিলহজ মুসলমানদের জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত অনুসারে পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের ঈদ ও কোরবানি সম্পন্ন করতে ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।

গত ঈদুল ফিতরের মতো এই ঈদেও করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। এবার ইতিহাসের সবচেয়ে কম সংখ্যক হজযাত্রী মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বুধবার পবিত্র কাবা তওয়াফের মাধ্যমে হজ পালন শুরু করেছেন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে সৌদি আরব এ বছর এই সীমিত আকারে হজ কার্যক্রমের আয়োজন করে। সেখানে যেতে পারেননি বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের মানুষ।

কারোনার কারণে উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই ঈদগাহ মাঠ সরগরম হচ্ছে না। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে নামাজ শেষে কোলাকুলিও হচ্ছে না। আর হাত মেলানোর অভ্যাস তো এখন ভুলতেই বসেছেন সবাই।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বন্যা ও নদীভাঙন। দেশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা ১৫০টি এবং ইউনিয়নের সংখ্যা ৯৩৬টি। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখ ৪০ হাজার ২৬৬টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যেই ঈদ আনন্দ পালনে ব্যস্ত হয়ে দেশবাসী। কোরবানির পশু কিনতে ছুটছেন হাটে। বড়রা তেমন কেনাকাটা না করলেও সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনছেন।

এদিকে ঈদ-উল-ফিতরের মতো এবারও রাজশাহীতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে মসজিদ কমিটির নির্ধারণ করে দেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। জেলা প্রশাসন এবারও নামাজের সময় নির্ধারণ করে দেয়নি। মসজিদ কমিটি তাদের সুবিধামতো নামাজের সময় নির্ধারণ করবে। তারপর মাইকিং করে তা জানিয়ে দেবে।

জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, যেহেতু এবারও ঈদগাহে ঈদের জামাত হবে না, তাই সময়ও নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। মসজিদ কমিটি তাদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করবে। তবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সব জায়গায় ঈদের নামাজ হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমি রাজশাহীর কালেক্টরেট মসজিদে নামাজ পড়ব। সেখানে জামাত সকাল ৮টায়। খোঁজ নিয়ে জেনেছি রাজশাহীর হজরত শাহমখদুম (রহ.) দরগা জামে মসজিদেও সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হজরত শাহমখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জামাত না করার কারণে সেটি এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক বার্তায় বলা হয়েছে, করোনার ঝুঁকি বিবেচনায় এ বছর পবিত্র ঈদ-উল-আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য মাস্ক পরিধান, কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরুত্ব বজায় ও এক কাতার অন্তর দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে মুসল্লিদের।এছাড়া জামায়াত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলোনা পরিহারের বিষয়েও ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, আসন্ন ঈদ-উল-আজহার আগের দিন থেকে পরের দিন পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর আলোকে রাজশাহী মহানগর এলাকায় আতশবাজি, পটকা ফোটানোসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য বিক্রি বা ব্যবহার, হিংসাত্মকভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা বা লাঠি ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও জায়নামাজ ছাড়া কোনো ব্যাগ, ভারি বস্তু বা অন্য কোনো দ্রব্যাদি বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে আবহ ভিন্ন হলেও বরাবরের মতো ঈদ উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আলাদা নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, জেলার প্রধান ঈদের জামাতসহ সকল জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে। ঈদের নামাজে সকল মসজিদে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টাংশ ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে ও নির্ধারিত জায়গায় কোরবানির পশু জবাই করতে হবে। ঈদের আগে আর কোথাও পশুর হাট বসানো যাবে না। জাল টাকা, অজ্ঞানপার্টি ও মলম পার্টির খপ্পর থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বরাবরের মতো এবারও ঈদের আনন্দ প্রকাশ করতে কোনোভাবেই উচ্চস্বরে গান বাজানো ও দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো যাবে না। এছাড়া যেকোনো ধরনের গুজব থেকে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্যও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ