করোনাকালেও পদ্মাপাড়ে বিনোদনের ঠিকানা


শিরিন সুলতানা কেয়া: করোনাকালে বন্ধ পার্ক-চিড়িয়াখানা। তাই রাজশাহীর বিস্তির্ণ পদ্মাপাড়েই এখন বিনোদনের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর ধারে ভিড় জমাচ্ছেন বিনোদন পিপাসুরা। কোথাও কোথাও অবশ্য মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

রাজশাহীর মরা পদ্মায় এখন খেলা করছে পানির ঢেউ। পড়ন্ত বিকেলে আলো-ছায়ার অদ্ভুত খেলায় একটু একটু করে চারপাশে জমতে থাকে রক্তিম আভা। গগনজুড়ে ছেয়ে যায় তার তার লাবণ্য। একাকার হয়ে যায় আকাশ, নদী আর প্রকৃতি। এর সম্মিলনে সৃষ্টি হয় মোহনীয় পরিবেশ। এটি অভিভূত করে সবাইকে। এমন অপার সৌন্দর্যের টানেই বিনোদন প্রেমিরা যাচ্ছেন পদ্মারপাড়ে।

রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি, বুলনপুর, টি-বাঁধ, পঞ্চবটির প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে পদ্মার পাড়। লকডাউন চলাকালে এলাকাগুলো সুনশান হয়ে গেলেও এখন আবার মুখরিত হয়ে থাকছে বিনোদন প্রেমীদের পদচারণায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের ভালোলাগার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এলাকাগুলো। করোনার থাবা দূর করে পদ্মার পাড়ে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও জমজমাট। মাঝিদের নৌকাতেও মিলছে যাত্রী। নৌকাগুলো ভাসছে ভরা পদ্মায়।

শুষ্ক মৌসুমের শান্ত পদ্মা এখন অশান্ত। পদ্মার পাড়ে মিলছে নির্মল বাতাস আর ঢেউয়ের শব্দ। এখন প্রতিদিন সান্ধ্য প্রদীপ নেভার মতোই পশ্চিমাকাশে পদ্মার পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে রক্তিম সূর্য। অপরূপ এ শোভা ধরা দিচ্ছে দৃষ্টি সীমানায়। অনেকেই পদ্মাপাড়ের লালন শাহ মঞ্চের আঁকাবাঁকা সিঁড়ির মতো সাজানো-গোছানো গ্যালারিতে বসে উপভোগ করছেন পদ্মার এমন রূপ।

পদ্মাপাড়ে ঘুরতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সারাক্ষণ ঘরে বসে থাকতে ধৈর্য্যহারা হয়ে যাচ্ছি। তাই একটু ঘুরতে এসেছি। ভরা পদ্মা দেখে খুব ভাল লাগছে।

গৃহিনী আঞ্জুমান আরা বলেন, বাচ্চাটাকে অনেক দিন পার্ক বা চিড়িয়াখানায় নিয়ে যেতে পারিনি। সেসব এখন বন্ধ। কিন্তু সে বাইরে যাওয়ার জন্য জিদ ধরেছে। এ কারণেই পদ্মাপাড়ে এনেছি।

পদ্মাপাড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মাস্ক না পরে পদ্মাপাড়ে গেলে জরিমানাও করছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পদ্মাপাড়ে যাওয়া যাবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পরতে হবে মাস্ক। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনালী/এসএসকে/আরআর

শর্টলিংকঃ