এসব সরকারি প্রাথমিকে শহিদ মিনার হবে কবে?

  • 1
    Share

নানা আনুষ্ঠানিকতায় জাতি পালন করেছে ৬৯তম শহিদ দিবস। দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও দেশে দেশে পালিত হয়। এদিন বর্ণাঢ্য আয়োজনে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয় ভাষা শহিদদের প্রতি। শহর-বন্দরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনারগুলো উপচে ওঠে ফুলে ফুলে। কিন্তু যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনারই নেই সেখানকার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয় শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এমন অবস্থা অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই।

একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে রাজশাহী জেলাতে শহিদ মিনার নেই এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬১১টি। এই শিক্ষা নগরীতেও এমন বিদ্যালয়ের খোঁজ সংশ্লিষ্টরা কি জানেন না ?

কাদিরগঞ্জ, রেলওয়ে স্টেশন, হেলেনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ মিশন অ্যাকাডেমির শিরোইল বালিকা শাখাসহ নগরীর বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে যেমন খেলার মাঠ নেই, তেমনি নেই শহিদ মিনার। ফলে শহিদ দিবসে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র যেতে হয় বা শোলা দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। এতে করে শিক্ষা জীবনের শুরুতেই ইতিহাস-ঐহিত্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের।

রাজশাহী জেলার এক হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহিদ মিনার রয়েছে মাত্র ৪৪৬ টিতে। জানা গেছে, শহিদ মিনার নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শতভাগ বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় শহিদ মিনার নির্মাণ হয়ে থাকে। এভাবেই পবা উপজেলার ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই শহিদ মিনার হয়েছে। উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা না থাকাও শহিদ মিনার না থাকার অন্যতম কারণ। এসব সমস্যার সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ থাকলে যে শতভাগ শহিদ মিনার সম্ভব সেটা দেখা গেছে রাজশাহীর পবা উপজেলায়। এমন উদ্যোগ থাকলে শুধু সরকারি প্রাথমিকেই নয়, সব বিদ্যালয়েই শহিদ মিনার অসম্ভব নয় মোটেই।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ