এলপিজি গ্যাসের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার আশা

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশে পাইপ লাইনে গ্যাসের পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার নতুন নয়। ২০ বছর আগে থেকেই দেশে বেসরকারি খাতে এলপিজির ব্যবসা শুরু হয়েছে। বাজারে এর চাহিদা ও ব্যবসার বিস্তৃতিও বেড়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও গ্রাহকের জন্য এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাসের দাম নির্ধারণ হয়নি, ফলে দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেমন নিয়ম নীতির বালাই ছিল না। তেমনি এনিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভেরও অন্ত ছিল না। অবশেষে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি করে দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা মতে, দেশে বছরে ১০ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ। বাজারের ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে এবং ২৯টি কোম্পানি এলপিজি গ্যাসের ব্যবসায় জড়িত। কোম্পানির সিদ্ধান্তেই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ঠিক হয়। বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ৯শ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যা ৮শ সাড়ে ৮শ টাকা ছিল।

এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণে ক্যাবের আবেদনের হাইকোর্ট গণশুনানির মাধ্যমে দাম নির্ধারণের আদেশ দিলেও তা পালিত হয়নি। এ কারণে আদালতে ক্ষমা চেয়ে বিইআরসি দাম নির্ধারণে উদ্যোগী হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভোক্তার জন্য সহনীয় মূল্য দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিইআরসির কারিগরি কমিটি বেসরকারি খাতে ১২ কেজির দাম ৮৬৬ টাকা নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যবসায়ীরা এতে আপত্তি জানিয়ে দাম ১ হাজার ৪২ টাকার কথা বলা হয়েছে।

গণশুনানিতে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা না বললেও চলে। জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমিয়ে আনার স্বার্থেই এটা গুরুত্ব দাবি করে। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিমাসে দাম নির্ধারণ করা যেতে পারে। সাধারণ গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করে ভতুর্কি দিয়ে হলেও গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। সর্বত্র এলপিজি গ্যাসের একই দাম নির্ধারণে গণশুনানিতে মানুষের আশার প্রতিফলন থাকবে বলেই সবার আশা।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ