এমপির নারী কেলেঙ্কারির গোপন ভিডিও ফাঁস!

অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে চাকরি প্রত্যাশী ৩৩ বছর বয়সী এক নারীর যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে।

ধর্ষণের অভিযোগ এনে এই নারী জানান, পুলিশ তার মামলা নেয়নি। এরপর থেকে এই নারী জেলা ছাড়া। আলোচিত নারীর এমন অভিযোগকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্যসহ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। গৌরীপুরের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও ঘটনাটিকে কোনভাবে বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রচার রয়েছে,আলোচিত নারী কৌশলে তার সেক্স স্ক্যান্ডাল গোপনে মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গৌরীপুরের এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র রাজীবকে ব্ল্যাকমেল করে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর সেই ভিডিও এখন ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তলে তলে সমালোচনার ঝড় বইছে ময়মনসিংহ জেলাসহ গোটা দেশজুড়ে। তবে এটিকে গৌরীপুরের নোংরা ও ঘৃন্য রাজনীতির ফসল বলে মনে করছেন অনেকে। গৌরীপুরের বিতর্কিত এই নারীর অভিযোগসহ আলাপচারিতায় দেখা গেছে বেশ ফারাক ও অসংলগ্নতা। কথাবার্তাসহ সবকিছুতেই স্মার্ট, তবে কোন কিছু লুকানোর স্পষ্ট ছাপ ছিল তার চোখে-মুখে।

ময়মনসিংহের পাশর্^বর্তী নেত্রকোনা জেলার একটি জায়গায় কথা বলার সময় এই চিত্র ফুটে ওঠে ওই নারীর চেহারায়। নিরাপত্তার অজুহাতে জেলা ছেড়ে পাশের জেলার অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নেয়ার কথা বললেও আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন না কেন? প্রশ্নে নিরুত্তর ওই নারী। ভিডিও চিত্রে মিউচুয়্যাল সেক্স দেখা গেলেও এক বছর পর এখন ধর্ষণের অভিযোগ তুলছেন কেন? এমন প্রশ্নেরও সদুত্তর মেলেনি।

তথ্য প্রযুক্তির কারসাজিসহ ঘটনাটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ। একটি মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্নসহ তাঁর দল আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বিব্রত করতেই এই ধরনের অপপ্রচারে নেমেছে বলে জানান তিনি। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি সরকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনা সত্যি হলে সেই নারী বিচার প্রার্থী না হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ভর করেছে কেন? স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যাকান্ডের সময় এই অপপ্রচার কেন? প্রশ্ন এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের।

অভিযোগ গত ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যার সময় ময়মনসিংহ মহানগরীর ঈষান চক্রবর্তী সড়কের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের ভেতর চাকরি প্রত্যাশী গৌরীপুরের এক নারী স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ধর্ষণের শিকার হন। নারীর অভিযোগ, এই ঘটনায় গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। উল্টো বাজে কথা বলে গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে কানাঘুষা শুরু হলে মাদকের এক মামলায় ওই নারী ও তার কথিত স্বামী স্কুল শিক্ষক লাজুককে জড়িয়ে হাজতবাস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এমপির এমন অপকর্মের বিচার চেয়ে সেই নারী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে একবার তার বাসাবাড়িতে এমপি পুত্র রাজীব ও তার বাহিনী হামলা চালানোর এক পর্যায়ে কেরোসিন ঢেলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তবে আগুন ধরিয়ে দেয়ার এই অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন কথাও রয়েছে। প্রচার রয়েছে, ওই নারী নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন এমপি ও তার পরিবারকে। কিন্তু স্বজনরা সময়মতো খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ও রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায় বেঁচে যান তিনি।

এরপর এ নিয়ে দীর্ঘ সময় আর কোন কানাঘুষা শোনা না গেলেও হঠাৎ করে গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যাকাণ্ডের সময় আবার আলোচনায় আসে বিষয়টি। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা এই ভিডিও চিত্রটি ১০ মাস পর বিএনপির তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জোবায়দা রহমানসহ বিভিন্ন আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল করা হয় গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যাকাণ্ডের সময় চলতি মাসের গত ১৭ অক্টোবরের পর। তোলপাড় করা এই ভিডিওকে চক্রান্ত বলে দাবি করছেন ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

ভিডিওটি যারা দেখেছেন তারা বলছেন, এটি কোন ধর্ষণের ঘটনা নয়। বরং দুজনের সমঝোতার মাধ্যমেই হয়েছে সবকিছু। ভিকটিম নিজেই মোবাইলে সেই ভিডিও ধারণ করে গোপনে। আলোচিত ভিডিওচিত্রেও সেটির প্রমাণ মেলে। অথচ ঘটনার প্রায় এক বছর পর আবার সেটিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাশেদা তাহমিনা প্রীতি এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ওই নারী দল আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের কাছে নালিশ করতে পারে। আর যদি সমঝোতার মাধ্যমে কোন কিছু হয়েই থাকে তাহলে এ নিয়ে এখন অপপ্রচার করা ঠিক নয়।

প্রায় এক বছর আগের ঘটনাকে এখন কেন সামনে আনা হচ্ছে?-প্রশ্ন রেখে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যাকান্ডের সময় বিতর্কিত নারী কেলেঙ্কারিকে সামনে এনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদকে ঘায়েল করতে চক্রান্ত করছে একটি মহল। এটি মহলবিশেষের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছেন এই নেতা।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন ভিন্ন কথা। সিপিবি-ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত জানান, একজন সংসদ সদস্যের শক্ত নৈতিক অবস্থান আশা করে জনগণ। এই ধরনের অপপ্রচারে জাতির কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিনসহ সরকারকে বিব্রত করতেই এই চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আর গৌরীপুর উপজেলার নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ঘটনাটিকে বিশ্বাসই করতে চাইছেন না।

রিক্সাচালক হানিফ জানান, আমরা তো দেখিনি। তবে শুনেছি। শোনা কথার ওপর তো কোন বিচার চলে না। স্থানীয় দোকানিরা মনে করেন এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল যেহেতু ময়মনসিংহ সদরে, তাই ওই নারীকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মাদক মামলায় ওই নারী ও তার স্বামীকে হয়রানির কথাও অস্বীকার করে গৌরীপুর থানা পুলিশ।

সূত্র: জনকণ্ঠ

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ