এমন বিদ্যালয় দেশে আর কয়টি আছে ?

দেশজুড়ে যেখানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার বইছে সেখানে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামোগতভাবেই শিৰা বান্ধব পরিবেশের অভাবে শিৰক-শিৰার্থীদের ঝুঁকির মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে। গতকালের সোনালী সংবাদে বিদ্যালয়ের চরম অস্বাস’্যকর অবস’ার কথা ছাপা হয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিৰার্থীর সংখ্যা ৪১২ জন। শিৰকদের ১৩টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১১ জন। গত বছর এই বিদ্যালয় থেকে ৭৩ শিৰার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীৰায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পায় ১৮ জন। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি লাভ করে ৫ জন। পরীৰার ফলাফলে সফল হলেও বিদ্যালয়টিতে শিৰা বান্ধব পরিবেশের অভাবের কথা স্বীকার করেছেন খোদ প্রধান শিৰক। নেই কোন খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ড্রেনের দুর্গন্ধের মধ্যেই থাকতে হয় শিৰক-শিৰার্থীদের। বৃষ্টি হলেই উৎকট হয়ে ওঠা দুর্গন্ধের সাথে ড্রেনের পানি জমে আসা-যাওয়ার পথে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস’া না থাকায় আবর্ণনীয় অবস’ার মধ্যে পড়তে হয় সবাইকে। স্বাভাবিক সময়েও ক্লাস র্বমের জানালা বন্ধ রাখতে হয়। খুললেই জানালা দিয়ে হু হু করে ঢুকে পঁচা দুর্গন্ধে ভরা বাতাস আর মশা। মশার কামড়ে লেখাপড়ায় মন বসানো অসম্ভব হয়ে পড়ে শিশু শিৰার্থীদের।
এমন অবস’ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰকে জানিয়েও লাভ হয়নি। উপজেলা শিৰা কর্মকর্তা এ অবস’ার কথা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করতে বলেছেন প্রধান শিৰককেই। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰকে বিষয়টি জানাবার কথা বললেও কার্যকর পদৰেপের দেখা পাওয়া যায়নি।
উলেৱখ্য, স’ানীয় এমপি খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও এই বিদ্যালয়টির দিকে তার নজর পড়লো না কেন সেটা আমাদের জানা নেই। ঊর্ধ্বতনদের দৃষ্টি না পড়াতেই কি লেখাপড়া ও পরীৰার ফলাফলে মডেল হলেও সত্যিকারভাবে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারেনি এখন পর্যন্ত ?
দেশজুড়ে শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের খবর জানা গেলেও এই বিদ্যালয়টিতে কেন তার ছোঁয়া লাগছে না সে প্রশ্নের জবাব দেবার কেউ নেই। এমন বিদ্যালয় দেশে আর কয়টি আছে সেটা কি আদৌ জানা যাবে ?

শর্টলিংকঃ