এমন প্রথা আর কোথায় আছে?

স্বাধীন দেশ, গণতান্ত্রিক সরকার কিন্তু অন্যায় প্রথা চলেছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট উত্তরাঞ্চলের বড় ব্যবসা কেন্দ্র। এখান থেকে আমসহ কৃষি পণ্য যায় সারা দেশেই। এখানেই চালু ছিল ‘ঢলন প্রথা’। স্থানীয় এই ওজনরীতিতে আমের মণ ধরা হতো ৪৮ কেজিতে, পেঁয়াজ ৪২ আর রসুনের মণ ছিল ৪১ কেজিতে। অবশেষে গত শুক্রবার এই ঢলন প্রথা বাতিল হয়েছে।

বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সভায় ঢলন প্রথা বাতিলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেন কৃষকরা।

ঢলন প্রথার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। বিভিন্ন সময়ে তারা প্রতিবাদও করেছে। কিন্তু কৃষকের কথায় কেউ কান দেয়নি। কৃষকদের বিভিন্ন পণ্যে ঢলন দিতে বাধ্য করা হতো। অন্যথায় পণ্য বিক্রি হতো না। সে নিয়মে প্রতিবছর আমের মণ ঠিক করা হতো। এ বছর আড়তদার-ব্যবসায়ীরা ৪৮ কেজিতে মণ ঠিক করেছিলেন। দু’বছর আগে ছিল ৪৫ কেজি। কাঁচামাল ঢাকায় নিতে পচে যায়, কমে যায়, এমন যুক্তিতে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে ঢলন নিলেও নিজেরা বিক্রির সময় ঢলন দিতেন না। এই কারণ তুলে ধরেই ঢলনের অন্যায় প্রথা বাতিল করা হয়।

এতে করে এখন থেকে ৪০ কেজিতে মণ হিসেবেই সব কৃষিপণ্য বিক্রি করবেন কৃষকরা। আড়তদার-ব্যবসায়ীদের দিনে দুপুরে ঢলনের মতো মানুষ ঠকানো প্রথা এতদিন চলেছে কীভাবে সেটা ভেবে দেখার বিষয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখের সামনে কীভাবে এই অন্যায্য, অন্যায় প্রথা টিকে ছিল তা বোঝা মুষ্কিল ! এমন প্রথা যে দেশের অন্যান্য হাট-বাজারে চালু নেই সেটা কি জোর দিয়ে বলা যায় ? আশা করি এর পর সর্বত্রই এমন প্রথা বন্ধ হবে। অবশ্য এ জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ