এভাবে আর কত নদী হারিয়ে যাবে?

  • 20
    Shares

মাত্র ক’দিন আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর মরণ দশা নিয়ে লিখতে হয়েছে। এর মধ্যেই নওগাঁ জেলার এক সময়ের খরস্রোতা নদী আত্রাই শুকিয়ে যাবার সচিত্র খবর ছাপা হলো পত্রিকায়। এভাবে নদ-নদী হারিয়ে যাবার তালিকা আর কত দীর্ঘ হবে সেটাই প্রশ্ন?

আশির দশকেও আত্রাইয়ের ভরা যৌবনে দুপাড়ের মানুষের বুকে কাঁপন সৃষ্টি করতো। নব্বই দশক থেকেই সে যৌবন হারাতে থাকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম এই নদীটি। এখন নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোন কোন স্থানে হাঁটু পানিও থাকে না। এবার খরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক স্থানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পঞ্চম বারের মতো শুকিয়ে গেল আত্রাই।

ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ থেকে উৎপত্তি হওয়া আত্রাই পশ্চিম দিনাজপুর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। খরা মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় নদীর শুকিয়ে যাওয়া তরান্বিত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের অভাবে এমনিতেই এ সময় খালে পরিণত হওয়া আত্রাইয়ের বুকে চাষাবাদ শুরু হয়। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে দুকুল উপচে বন্যা হয় প্রতিবছর।

ফলে নদীকেন্দ্রীক জীবন-জীবিকা পড়েছে হুমকির মুখে। এক সময়ের খরস্রোতা আত্রাইয়ের ধারে ধারে হাট-বাজার, গঞ্জ, জনপদ গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। জেলে বসতির মানুষ মাছ ধরে জীবন কাটাত। দুই পাড়ের জমিগুলো নিয়মিত সেচ পেয়ে ফলে- ফসলে ভরে উঠতো। এখন শুকিয়ে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা নদী তীর দখল করছে। ভরাট করে ঘর-বাড়ি, স্থাপনা নির্মাণ করছে। যত্রতত্র বালু তুলে, মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে অবাধে। ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করছে মরতে বসা নদীটিকে। এসব নিয়ে মাথা ব্যথা দেখা যায় না কোনো কর্তৃপক্ষেরই।

অথচ, পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করলে, নদী রক্ষণাবেক্ষণে সচেষ্ট হলে ঐতিহ্যবাহী আত্রাইয়ের এমন দশা দেখতে হতো না। এভাবে যদি একের পর এক নদী হারিয়ে যেতে থাকে তবে অচিরেই নদ-নদীর এই দেশে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। সময় থাকতেই নদী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ