এখনই টিকা নিতে অনাগ্রহ ৫২ শতাংশের!

অনলাইন ডেস্ক: বহুল প্রত্যাশিত করোনাভাইরাসের টিকা ইতিমধ্যে দেশে চলে এসেছে। আগামীকাল বুধবার এই টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে। তবে এখনই টিকা গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহ মাত্র দেশের ৩২ শতাংশ মানুষের। অপরদিকে ৫২ শতাংশ মানুষের আপাতত আগ্রহ নেই। যদিও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা টিকা নিতে পারেন বলে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তিন হাজার ৫০০ জনের ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষণা দলটির অন্যতম সদস্য ছিলেন ড. শাফিউন নাহিন শিমুল।

এর আগে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় অন্তত ৭৫ শতাংশ মানুষের টিকার প্রতি আগ্রহের তথ্য উঠে এসেছিল। সেখানে প্রান্তিক মানুষের চেয়ে নগরবাসী টিকা নিতে বেশি আগ্রহী ছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রান্তিক মানুষের টিকা নেয়ার আগ্রহ বেশি বলে তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের আট বিভাগের আটটি জেলা ও ১৬টি উপজেলায় এবং ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে জনসমাগম বেশি এমন জায়গাগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপে পাওয়া গেছে, ১৬ শতাংশ মানুষ কখনোই টিকা নিতে চান না।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিন বিবিসিকে বলেন, ‘মোট ৮৪% মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী তবে এর মধ্যে ৫২% এখনই না নিয়ে ধীরে সুস্থে নিতে আগ্রহী।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়, ঢাকা সিটিতে টিকা নেয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কম। আবার যারা টিকা নিতে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বেশি।

বিনামূল্যে না দেয়া হলে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ তুলনামূলক কম। তবে টিকা নিতে আগ্রহী মোট ৮৪% মানুষের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে টিকা নিতে আগ্রহী ৬৬%। আবার বয়স্কদের, বিশেষ করে ষাটের চেয়ে বেশি বয়স যাদের, তাদের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ কম।

আগ্রহীরা কেন এখনই টিকা নিতে রাজি নন এ বিষয়ে ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বিবিসিকে বলেন, ‘গবেষণা তিনটি বিশেষ কারণ উঠে এসেছে টিকা নিতে অনাগ্রহের বিষয়ে। এগুলো হলো টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং টিকার মান নিয়ে সন্দেহ। এর বাইরে একদল ব্যক্তি আছেন যারা মনে করেন টিকা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা নেই।’

এছাড়াও শহর এলাকার মানুষ টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেক বেশি তথ্য পায়। আর বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা নেতিবাচক আলোচনা বেশি হয় বলেই অনেকে মনে করেন। হয়তো তারও একটা প্রভাব এটি হতে পারে বলেও মনে করেন ড. নাহিন।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ