এক বেগুনের ওজন দেড় কেজি!

অনলাইন ডেস্ক: মানুষে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় বেগুন একটি জনপ্রিয় নাম ও খাদ্য। বিভিন্ন সময় এ সবজিটি দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয়।

নাম বেগুন হলেও এতে রয়েছে কয়েক ধরনের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ। চাহিদা ও উৎপাদনের তারতম্যের কারণে মাঝে মধ্যে এর দামও হয় কম বা বেশি।

অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মাঝে মধ্যে সংকটও দেখা দেয় কাঁচা বাজারে। তবে সব কিছুর মধ্যে কৃষিখাতকে সম্মৃদ্ধ করতে সম্প্রতি বারি বেগুন-১২ নামে বেগুনের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। যার একেকটি বেগুনের ওজন এক কেজি দুইশ’ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ দেড় কেজি হতে পারে। এমন বিশাল আকৃতির বেগুন প্রথমে হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে লাউ। আকারে বেশ বড় সবুজ এবং কালো দুই রঙের এ বেগুন উদ্ভাবন করেছেন তারা।

পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভাবনী বারি বেগুন-১২ নামে নতুন জাত দেশে বেগুন চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ বেগুনের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষি অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, বিশেষ করে লবণাক্ততা সহনশীল জাত হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর গবেষণা করে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ বেগুনে বিচি অনেক কম এবং সবজি নরম হওয়ায় এটি খেতেও অন্য সব বেগুনের চেয়ে সুস্বাদু। এ ছাড়া ওপেন পলিনেটেড হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত বেগুন থেকেই বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন।

আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইদ্রিস আলী হাওলাদার বলেন, অনান্য বেগুনের চেয়ে বারি বেগুন-১২ এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় কীটনাশক কম দরকার হয় এবং এ বেগুন একর প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। একেকটি বেগুনের ওজন এক কেজি দুইশ’ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ দেড় কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মো. মিয়ারুদ্দিন বলেন, অধিক ফলন এবং রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকরা এ বেগুন চাষে বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করি। এ বছরের ২৬ জুন বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগ থেকে বারি বেগুন-১২ নামের জাতের এ জাতটির সনদ দেয়।

সোনালী/জেআর

শর্টলিংকঃ