এক নাটক প্রশিৰকের দাপটেই তটস’ সবাই

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগীয় ৰুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির নাটক প্রশিৰক লুবনা রশিদ সিদ্দিকা কবিতা। কিন’ প্রশিৰণ কার্যক্রমের চেয়ে একাডেমিতে দাপট দেখাতেই বেশি মনোযোগী তিনি। অভিযোগ উঠেছে, কথায় কথায় তিনি সহকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। তার দাপটের কাছেই তটস’ হয়ে পড়েছেন সবাই। এ নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় এই প্রশিৰকের বির্বদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।
একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় এই জিডি করেছেন। এর আগে সম্প্রতি উপজাতীয় সংগীত প্রশিৰক মানুয়েল সরেন থানায় একাডেমির উপপরিচালকের কাছে লুবনার বির্বদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। মানুয়েল তার অভিযোগে লিখেছেন, লুবনা তার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছেন। এছাড়া চেয়েছেন জবাই করতে। আর বেনজামিন তার জিডিতে বলেছেন, একাডেমির উপপরিচালকের সামনেই লুবনা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার একাডেমির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন স’ানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক ড. চিত্তলেখা নাজনীন।
তিনি চলে যাওয়ার আগে তার কাছেও এ ব্যাপারে অভিযোগ হয়েছে। তারও আগের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীনের কাছেও অভিযোগ হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের কাছেও লুবনার বির্বদ্ধে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মীরা। তবে তার বির্বদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস’া নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগে একাডেমির কর্মকর্তারা বলেছেন, লুবনা কাউকে তোয়াক্কা করেন না। স্বামী সালাহউদ্দিনকে নিয়ে গিয়ে একাডেমিতে হাঙামা করেন। কিছু দিন আগে লুবনার স্বামী একাডেমির আরেক সংগীত প্রশিক্ষক কবীর আহম্মেদ বিন্দুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আর লুবনা সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আদিবাসীদের নাটকের প্রশিৰক হলেও তিনি তাদের অবহেলা করেন। এছাড়া দুর্ব্যবহারের কারণে তার কাছে এখন একজনও প্রশিৰণার্থী নেই। ফলে ঠিকমতো অফিসও করেন না লুবনা। তবে হাজিরা খাতার স্বাৰর করেন প্রতিদিনেরই।
একাডেমির কর্মকর্তারা জানান, ছুটি নিলেও পরবর্তীতে অফিসে গিয়ে লুবনা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে যে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি। কিন’ তিনি ছুটি কাটিয়েছেন। সন্তান প্রসবের পর অফিসে গিয়ে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। একাডেমির শিৰার্থী সাবিত্রী হেমরম, শিউলি মার্ডি, আশা বিশ্বাস ও আদরী মার্ডিসহ আরো অনেকে জানায়, প্রশিৰক লুবনা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তাই তারা নাটকের প্রশিৰণ নেয় না।
এদিকে একাডেমির প্রশিৰকরা জানান, লুবনার কথায় সাঁয় না দিলেই তিনি দুর্ব্যবহার করেন। হুমকি দেন। সম্প্রতি একাডেমির গবেষণা সহকারী মোহাম্মদ শাহজাহানকেও হুমকি দেন। তার কাছে কোনো প্রশিৰণার্থী নেই বলে এখন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বন্ধ হতে বসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাট্য প্রশিৰক লুবনা রশিদ সিদ্দিকা কবিতা বলেন, আমার শরীরের হাড় ৰয় হয়ে গেছে। নিজেই ঠিকমতো চলতে পারি না। অন্যের প্রাণনাশ করব কীভাবে? তিনি বলেন, আদিবাসীরা নাটকের প্রশিৰণ নিতে যায় না। তাই তার কাছে কোনো নাটকের প্রশিৰণার্থী নেই। তবে তিনি সন্ধ্যার পর আদিবাসীপাড়ায় গিয়ে আবৃত্তি শিখিয়ে আসেন।
মাতৃত্বকালীন সময়ে ছুটি না নিয়েও ছুটি কাটানো এবং পরে হাজিরা খাতায় স্বাৰরের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিতা বলেন, এ বিষয়টি তার মনে নেই। তিনি বলেন, তার বির্বদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক না। কিছু দিন আগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও তার বির্বদ্ধে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগ সত্য নয় বলে তার বির্বদ্ধে কোনো ব্যবস’া নেয়া হয়নি।
জিডির বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মনসুর আলী আরিফ বলেন, একটা জিডি হয়েছে। সেটি তদন্তের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী পদৰেপ গ্রহণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ