এক চিকিৎসক ও পাঁচ পুলিশের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

  • 51
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ব্যাপারে আদালতকে অসহযোগিতার অভিযোগে এক চিকিৎসক এবং পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজশাহী মহানগরীর মধ্য নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল কুমার রক্ষিতের মৃত্যুর বিষয়ে জব্দ তালিকা, মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মূল কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ মে মধ্য নওদাপাড়া এলাকায় শ্যামলের গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তবে তার পা ছিল মাটি স্পর্শ করে। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামলকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে সে সময় থানায় হত্যা মামলা হয়নি। মৃত শ্যামল কুমার রক্ষিতের স্ত্রী নমিতা রাণী রক্ষিতের দাবি, লাশ পাওয়ার পর তিনি থানায় একটি লিখিত এজাহার দেন। তবে একবছর পর তিনি জানতে পারেন মামলাটি রেকর্ড হয়নি। এমনকি কোন অপমৃত্যুরও মামলা করেনি পুলিশ। শুধু একটি জিডি করে লাশ ময়নাতদন্ত করে পুলিশ। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে তিনি আদালতে মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির পর পর তিনটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এদিকে পুলিশ যে জিডি করেছিল, সেটির নিষ্পত্তির জন্য আদালত বার বার নথিপত্র ও জব্দ তালিকা তলব করেন। ডাকা হয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককেও। কিন্তু নথিপত্র আদালতে পাঠানো হয়নি। সব পুলিশ কর্মকর্তাও আদালতে যাননি। হাজির না হওয়ার কারণও আদালতকে জানাননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হক।

এ কারণে গত ১৭ জানুয়ারি নমিতা রাণী রক্ষিতের আইনজীবী নীলিমা বিশ^াস তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে নগরীর শাহমখদুম থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার আলী তুহিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান, শাহমখদুম সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামছুল আযম ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৬৭/২২৮/১৬৬/২১৭/২০১ ধারা মোতাবেক এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৯৭ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানো হয়।

এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ও আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, আইনজীবীর পক্ষ থেকে এক চিকিৎসক ও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শামছুল আযম এখন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আবদুর রশিদ এখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এসআই আমিনুল ইসলাম এখন বগুড়া পিবিআইতে কর্মরত। শাহমখদুমের তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান এখন আরএমপির কাটাখালী থানার ওসি। আর পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিন এখন আরএমপির কর্ণহার থানার ওসি। ডা. এনামুল হক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক।

মৃত শ্যামল কুমার রক্ষিতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্যামলের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। শ্যামলকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের লেখা কাটাকাটি হত্যাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। আর পুলিশ হত্যা মামলার এজাহার নিলেও সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। পরিবার জানিয়েছে, শ্যামলের লাশ পাওয়ার সময় তার পা মাটি স্পর্শ করেছিল। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেই বিষয়টি উঠে এসেছে।

পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দাপ্তরিক চিঠিটি তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ