এই ব্যথাগুলোকে কখনও গুরুত্বহীন ভাববেন না

অনলাইন ডেস্ক:

সাধারনত কিছু ব্যথাকে আমরা এড়িয়ে যাই। গুরুত্বই দেই না। যা আমাদের মোটেও উচিত না। বর্তমানে রোগের যেনো কোনো শেষ নেই। কোথা থেকে যে কি হয়ে যায় কিছুই বুঝে ওঠার আগে হঠাৎ পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতা যেনো অসময়ে বজ্রপাতের মত মনে হয়।

যতই হঠাৎ করে জটির রোগ ধরা পড়ুক না কেনো কিন্তু তা একদিনে হয়তো তৈরি হয়নি। এটা দীর্ঘদিনের ফলে হয়। কিছু লক্ষণকে আমরা গুরুত্ব দেই না।

আর সেই ছোট সমস্যাটায় হয়তো জটিল রোগের লক্ষণ থাকে। যাই হোক কিছু কমন ব্যথা আছে। যেগুলো হলে মোটেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

তীব্র মাথা ব্যাথা: তীব্র মাথা ব্যাথা অবহেলা করবেন না। যদি ঠান্ডা লাগে আর তীব্র মাথা ব্যাথা হয়, তাহলে সাধারনভাবে ধরে নিতে হবে সাইনাসের সমস্যা।

কিন্তু দীর্ঘক্ষন স্থায়ী হলে, এটা হতে পারে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরন কিংবা হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমার। তাই যে কোন ব্যাথা যদি আপনি নিশ্চিত না হন, তবে অবশ্যই মেডিকেল চেক-আপ করিয়ে নিন।

যদি কেউ বলেন যে এটা তার জীবনের সবচেয়ে বাজে মাথা ব্যাথা এবং সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি, তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলে পারি ‘ব্রেইন এ্যানিউরিজম’। যতশীঘ্র সম্ভব চেক-আপ করান।

বুকে, গলায়, চোয়ালে, কাঁধে, বাহুতে বা পেটে ব্যাথা: বুকে ব্যাথা – হতে পারে নিউমোনিয়ার কারনে আবার হার্ট এটাকের কারণে। তবে মনে রাখবেন, যদি খারাপ লাগে বা অস্বস্তি লাগে তাহলে দেরী করবেন না।

বুকের ভিতর কেমন কেমন করে, অস্বস্থি বোধ হৃদরোগের লক্ষণে। হৃদরোগীরা বুকের ভিতর চাপ অনুভব করেন। অনেকে বুকে হাত দিয়ে বলেন, মনে হয় আমার বুকে যেন হাতী বসে আছে।

আস্তে আস্তে এই ব্যাথা বুকের উপরের দিকে, গলা, চোয়াল, বাম কাঁধ ও হাত অথবা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো বমি বমিও লাগতে পারে।

ব্যাথা যখন দুই কাধের মাঝে বা পিঠের নীচের দিকে: যদি এরকম স্থানে ব্যাথা দেখা দেয় বা থাকে, তাহলে এটা হতে পারে আর্থ্রাইটিস। অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে হতে পারে এটি হার্ট এ্যাটাক অথবা কোন এ্যাবডোমিনাল প্রবলেম।

একটা হতে পারে তা’ হল এ্যায়োর্টিক ডিসেকশন বা ধমনীর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যা হঠাৎ ব্যাথা বা সূচ ফোঁটানোর মত করে তীব্র ব্যাথার আকারে দেখা দিতে পারে।

যারা এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রোগে আক্রান্ত তাদের জরুরীভিত্তিতে ধমনী বা শিরার দেয়ালের ক্ষত নিরাময় করা দরকার। উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে এরকম হতে পারে অথবা যদি রোগীর রক্ত প্রবাহে কোন সমস্যার ইতিহাস থাকে, তাহলেও হতে পারে। আবার ধুমপান এবং ডায়াবেটিসের কারনেও হতে পারে।

তীব্র পেটের ব্যাথা: আপনার কি এ্যাপেনডিক্সের সমস্যা আছে? অবহেলা করবেন না, কারন যেকোন সময় বড়ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এতে উদর-গহবরে দেয়াল ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।

তীব্র ব্যাথার কারন হতে পারে গল ব্লাডার কিংবা প্যানক্রিয়াটিসের সমস্যা, পাকস্থলীর ক্ষত বা ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্লক ইত্যাদি। তবে যে কারনেই হোক, দরকার জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন।

পায়ের হাঁটু বা নীচের অংশে ব্যাথা ও ফুলে যাওয়া: Deep Vein Thrombosis (DVT)  আমরা সচারচর এই বিপদের কথা জানিন না বা কম জানি। এটা পায়ের প্রধান শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ডিভিটি দেখা দেয়।

প্রতি বছর প্রায় দুই লাখের মত আমেরিকান এই সমস্যায় ভোগেন। আমাদের দেশের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রচুর রোগী এধরনের সমস্যায় ভোগেন। এটিও জীবন হরনকারী মারাত্মক রোগ।

এতে যা হয় তা হল, জমাট কোন রক্তের টুকরা হয়তো ফুসফুসে চলে যেতে পারে এবং পালমোনারি এমবোলিজম দেখা দিতে পারে – যা খুবই মারাত্মক – ফ্রাইহোফার বলেন।

এই ঝুঁকির কারণ সমূহের মধ্যে আছে ক্যানসার, স্থুলতা, বেড রেস্টে থাকার ফলে নড়াচড়াহীনতা অথবা দীর্ঘ সময় ধরে একটানা ভ্রমণ, গর্ভধারন এবং বৃদ্ধাবস্থা ইত্যাদি।

কখনো কখনো আক্রান্ত স্থান ব্যাথা ছাড়াই ফুলে যেতে পারে। যদি দেখেন যে আপনার কাফের পেশি ফুলে গেছে সাথে ব্যাথা, তাহলে দেরী না করে ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হোন।

পা এবং পায়ের পাতা জ্বালা-পোড়া:  পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির লক্ষন হল পায়ে বা পায়ের পাতায় জ্বালা-পোড়া করা অথবা আলপিন বা সূচ ফোঁটার মত তীব্র ব্যাথা। আর এর মানে হল তার ডায়াবেটিসের কারনে প্রান্তিয় স্নায়ুগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া।

অস্পষ্ট, মেডিকেলি ব্যাখ্যা করা যায় না এমন ব্যাথা: সাইকিয়াট্রিস্ট থমাস ওয়াইস বলেন যে, মানসিক বিষাদে অনেক সময় নানাধরনের শারীরিক ব্যাথা অনুভূত হয়।

অনেক রোগী এসে বলেন তার প্রচন্ড মাথা ধরেছে, তীব্র পেটে ব্যাথা হচ্ছে অথবা হাঁটুতে ব্যাথা পাচ্ছেন, কখনো কখনো একাধিক স্থানে ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে ইত্যাদি।

আসলে তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কোথায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগীর নির্দেশিত স্থানে ব্যাথা না পাওয়াতে বা সঠিকভাবে ডায়াগনোজ না হওয়ার ফলে ডাক্তার হয়তো তার অভিযোগ বাতিল করে দিলেন।

শুধু ডাক্তারই নয় রোগীর পরিবারের লোকজনও এতে তার অভিযোগ সম্পর্কে উদাসিন হয়ে পড়েন। এতে করে রোগী আরো ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে এবং সেও তার রোগ সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে পড়ে। সব অভিযোগই ভন্ডুল হয়ে যায়।

শেষমেষ তারা ভাবেন আমার দ্বারা কিছু হবে না। এতে তাদের কাজে-কর্মে প্রচন্ড অনিহা চলে আসে, এমনকি কাজে-কর্মে অক্ষম হয়ে পড়ে, চিন্তা করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।

লোক সমাজে চলাচল পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। এরফলে তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ছেদ পড়ে, অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না করালে তার মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে নাও আসতে পারে।

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ