- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

এই দুঃসময়ে অনিয়ম হলে ছাড়ব না

স্টাফ রিপোর্টার: সবাইকে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন’ তাকে ছাড়ব না। বিন্দু পরিমাণ অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ৬৪ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি দেন। ভিডিও কনফারেেন্েস প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এ জন্য যে এ বিভাগে এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়নি। বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বর্তমান পরিসি’তিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিত্তবানদের সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পরিসি’তির সুযোগ নিয়ে কেউ দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা হবে দুঃখজনক। এটা আমরা সহ্য করব না। তিনি বলেন, ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সমপ্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে। তারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।
সবাইকে ঘরে অবস’ানের পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কারণ নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সময়টাকে ক্রান্তিকাল উলেৱখ করে বলেছেন, একটি ক্রান্তিকালে এই ভিডিও কনফারেন্স। এরকম পরিসি’তি বোধহয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনও দেখিনি। তিনি বলেন, আজ যে পরিসি’তি সৃষ্টি হয়েছে সেটা কেবল বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীজুড়ে এই সমস্যাটা রয়েছে। এখানে ধনী-দরিদ্র, দুর্বল কিংবা শক্তিশালী দেশ, উন্নত বা অনুন্নত সবাই এই পরিসি’তির শিকার। কেউই বাদ যায়নি। এরকম পরিসি’তি বোধ হয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনও দেখিনি। অতীতের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে শত বছরে একবার করে এরকম একটা ধাক্কা আসে।
করোনা মোকাবিলায় সরকারের কর্মকা- তুলে ধরে তিনি বলেন, গুর্বত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জনগণকে সচেতন করা। সেটা আমরা করতে পারলেও তিন মাসে আমরা এই অবস’া ধরে রাখতে পেরেছি। সবাই নিজেদের জায়গা থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা পেরেছি। আমরা বিমানবন্দর, নৌবন্দর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছি। থার্মাল স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা ব্যবস’া নিয়েছি। নববর্ষের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠান আমরাই শুর্ব করেছিলাম। কিন’ তাও আমাদের বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মানুষের কল্যাণেই এ অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ আপনাদের।
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করার অর্থ নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনকল্যাণে যেসব কাজ তা করতে হবে যথাযথভাবে নিয়ম মেনে। গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, নানা ধরনের গুজব তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ এ কাজটা করেন। আমি বলি গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজব সৃষ্টিকারীরা যদি কোনো মিথ্যা কথা বলেন তাদের বির্বদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহণ করতে হবে।
গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যুক্ত হলে বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খোন্দকার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, প্রথমেই আপনারকে সুখবর দিতে চাই। তা হলো রাজশাহী বিভাগের কোনো জেলাতেই করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। ছয়জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা আইইডিসিআরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন’ সবকটিই নেগেটিভ এসেছে। তিনি বলেন, আগামীতে করোনা রোগী পাওয়া গেলে বা পরিসি’তির প্রয়োজন হলে এক হাজার ৬৮০টি বেড প্রস’ত আছে। পিপিই’র কোনো ঘাটতি নেই। এই বিভাগে পাঁচ হাজার পিপিই মজুত আছে।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তায় রাজশাহী বিভাগে ইতোমধ্যে ৯২১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার ৪০০ টন চাল মজুত আছে। আর নগদ ৮১ লাখ টাকা হাতে আছে। আগামী ৬-৭ মাস কোনো মানুষ কাজ না করলেও আমরা খাদ্য সহায়তা দিতে পারবো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনে আরও টাকা ও খাদ্য পাঠাবো। পরে সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়র্বজ্জামান লিটন ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা উপসি’ত ছিলেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসক হামিদুল হকের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীকে জানান, করোনাভাইরাসের জন্য কর্মহীন রাজশাহী জেলার ৪০ হাজার পরিবারকে চাল ও নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন। মহানগরীসহ ৯টি উপজেলার ৪০ হাজার ৪০০ পরিবারকে ৪০৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার শহিদুলৱাহ, সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক প্রমুখ।