ঊর্ধ্বমুখী করোনা, টিকা নেয়ার বিকল্প নেই

  • 12
    Shares

সারা দেশের মত রাজশাহী বিভাগেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরও ৯৮ জনের মৃত্যু, নতুন ৪ হাজার ১৪ জন আক্রান্তের খবর আগেই জানা গেছে। ২১ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, (রামেক) হাসপাতালে ৪ জন, আর বগুড়ায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের ৪৮ ঘণ্টায় এই নিয়ে রাজশাহী বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হলো। আর মৃতের সংখ্যা ৪৬৪ জন।

দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর রাজশাহী বিভাগে করোনা সংক্রমণ শহরের পাশাপাশি গ্রামেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার ব্যবস্থা না থাকায় উপসর্গ নিয়ে ও উপসর্গহীন করোনা রোগীরা হাট-বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। অন্য দিকে শহরে লকডাউনের কড়াকড়ি ও মাস্ক ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতায় করোনার বিপদ কমার ধারণা করা গেলেও তেমন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

তবে টিকা গ্রহণে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এটা ঠিক যে, করোনা থেকে জীবন বাঁচাতে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই। রাজশাহীতে টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেলেও প্রথম ডোজের টিকা দেয়া স্থগিত হয়ে গেছে। টিকার মজুদ কমে আসা ও প্রাপ্যতা অনিশ্চিত হয়ে পড়াই এর কারণ বলে জানা গেছে। সরকার গঠিত ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তি, উৎস ও সংগ্রহ সংক্রান্ত বোর্ড কমিটির’ সর্বশেষ আলোচনায় আগামী ১৫ মের মধ্যেই টিকা শেষ হবার তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে একমাত্র উৎস ভারত থেকে টিকা আসবে কি-না, আসলেও তার পরিমাণ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি। ফলে টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত ৩ লাখ ছাড়িয়েছে যা বিশ্বের সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ২ হাজার ১০৪ জনের। এ অবস্থায় ভারত থেকে টিকা পাওয়ার কথা বলা হলেও ভরসা পাওয়া কঠিন।

এমন অবস্থায় বিশ্বে জরুরি প্রয়োগের জন্য অনুমোদন পাওয়া ১২টি টিকার মধ্যে অস্কফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’ ছাড়াও আরও ৬ টি টিকার জরুরি অনুমোদন দেয়ার তোড়জোড় শুরু হওয়ার আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার, মর্ডানা, জনসন অ্যান্ড জনসন, রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি, চীনের সাইনোফার্ম (বেইজিং) ও সাইনোভেক। রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনার ব্যাপারে অগ্রগতির পাশাপাশি রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি আমদানি ও দেশে উৎপাদন নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেরিতে হলেও টিকা নিয়ে সরকারের এমন উদ্যোগ আশার আলো ছড়িয়েছে।

এটা পরিষ্কার যে, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সময় সাপেক্ষ্য ব্যাপার। সামনে ঈদের কারণে লকডাউন উঠে গেলে পরিস্থিতি ঠিক কি হয় তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও উদ্বেগ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার পরও টিকা নেয়ার বিকল্প নেই। টিকা নিলে করোনায় আক্রান্ত হলেও আইসিইউ এড়ানোর ভরসা রয়েছে। তবে এজন্য যে কোনো মূল্যে টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ