উন্নয়ন শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, টেকসইও হতে হবে

  • 10
    Shares

রাজশাহী নগরীকে দৃষ্টিনন্দন করতে সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার শেষ নেই। অনেক অপ্রশস্ত সড়ক প্রশস্ত হয়েছে। বৈদ্যুতিক বাতিতে ঝলমল করে নগরী। বিলসিমলা থেকে কাশিয়াডাঙা পর্যন্ত দুই লেনের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পর ডিভাইডারের ১৭৪ টি খুঁটিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুঁটিগুলোর ওপরে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে থাকা দুই পাশে দুটি করে এলইডি বাতি লাগানো হয়েছে।

চীন থেকে আনা খুুঁটি ও বাতিতে সড়কটি আলোকজ্জ্বল করতে খরচ বলা হয়েছে পাঁচ কোটি ২২ লাখ টাকা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সড়ক বাতিগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বাহবা নেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। কিন্তু দুমাস না যেতেই মৌসুমের প্রথম ঝড়ে প্রায় অর্ধেক খুঁটি যেভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে তাতে মানুষ বিস্মিত না হয়ে পারে না। নির্মাণকারীদের ত্রুটিতেই এমন অবস্থা বলে সবার ধারণা।

গত রোববার বিকালে ঘণ্টা খানেকের ধূলিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার। আর রাসিক প্রকৌশলীর কথা মতো সড়কবাতির খুঁটিগুলো বসানো ছিল পাঁচ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের স্তম্ভের ওপর যার সাড়ে তিন ফুট মাটির নিচে পোঁতা ছিল। এমন খুঁটি এই ঝড়েই কুপোকাত হওয়া কতটা স্বাভাবিক সে প্রশ্ন উঠেছে নগরবাসীর মনে।

তবে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের দায় নেই বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের এক বছরের ওয়ারেন্টির কথা উল্লেখ করে তারা জানিয়েছেন, ওরাই এসব ঠিক করে দেবে। এর মধ্যেই ঠিক করার কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

খুঁটিগুলো ঠিকঠাক হয়ে আবারও আলো ছড়াবে ঠিকই। তবে ব্যস্ততম সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটির এ ধরনের মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতে যে এর পুনরাবৃত্তি হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়। আর এতে করে যে প্রাণহানীর মত দুর্ঘটনা ঘটবে না সেটাও কি জোর দিয়ে বলা যায় ?

তাই উন্নয়ন কাজ দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি যাতে টেকসই হয় সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেবার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশে উন্নয়নের বাণিজ্য যে হচ্ছে না সেটা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে না।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ