উন্নয়ন করার জন্য সরকার উন্মুখ হয়ে আছে /পরিকল্পনা মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সরকারের অর্থের কোনো সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ বিষয়ক রাজশাহী বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। সভায় মন্ত্রী বলেন, অর্থের সমস্যা নেই। যে সমস্যাটুকু রয়েছে তা ব্যবস্থাপনার। এখানে আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে।
তিনি বলেন, রাজশাহীর অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। এ ঐতিহ্যকে আর সুদৃঢ় করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি একনেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জনসম্পদ দেশের একটি বড় সম্পদ। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে একটি সঠিক জনশুমারি প্রয়োজন। ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পর পর একটি জনশুমারি করা হয়। আমাদের মাঝে এমন টেকনোলজি আসছে যার ফলে ভবিষ্যতে শুমারি অতি সহজ হবে। আসন্ন শুমারিতে যারা মাঠ পর্যায়ে কর্মী হিসেবে কাজ করবে তাদের সম্মানী চারগুণ করা হয়েছে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় ২০২১ সালের জনশুমারি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সভায় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা শুমারিতে আরও তথ্য লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন বলে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জনশুমারির সময় যদি প্রত্যেক মানুষের ধর্ম, পেশাসহ প্রয়োজনীয় আরও তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয় তাহলে সমাজ সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট ধারণা পাব। শুমারি তথ্যবহুল হবে। এগুলো তথ্য লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হলে তা করার আহŸান জানান বাদশা।
সভায় রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুনসুর রহমান ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শৈরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীও বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খোন্দকার।
সভায় জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের পরিচালক মো. জাহিদুল হক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২১ সালের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালিত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ এ বছরের ১৭ মার্চ থেকেই শুমারির ক্ষণগণনা শুরু হবে। প্রথমবারের মত মূল শুমারির আগে লিস্টিং অপারেশন পরিকল্পনা করা হবে।
লিস্টিং অপারেশনের সময় প্রতিটি খানার জন্য একটি ইউনিক হাউজহোল্ড আইডি প্রদান করা হবে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম চালাবে। সর্বশেষ ২০১১ সালে পঞ্চম জনশুমারি ও গৃহগণনায় দেশের মোট জনসংখ্যা ছিলো ১৪ কোটি ৯৮ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ সাড়ে ৭ কোটি ও নারী ৭ কোটি ৪৮ লাখ।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. আব্দুল মান্নান, জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বোয়ালিয়া) সাজিদ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ