উন্নয়নের সাথে বৈষম্য কাম্য হতে পারে না

দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, পাশাপাশি বৈষম্যও বাড়ছে। অথচ সামাজিক বৈষম্য রোধ করার কথা সংবিধানেই লেখা আছে। সংবিধানে সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা, মানবিক মর্যাদার কথাও লেখা আছে। কিন’ দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য পাহাড়সম হয়ে উঠেছে। এই বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ওর্য়াকার্স পার্টির বিভাগীয় জনসভায়।
গতকাল মাদ্রাসা ময়দানের জনসমুদ্রে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশে যখন মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার তখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী দৈনিক এক ডলারেরও কম আয় করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৭৪ সালে দেশে চারজন কোটিপতি ছিল, এখন কোটিপতির সংখ্যা এক লৰ ২২ হাজার। তারা বিলাস-ব্যসন আর টাকা পাচারে লিপ্ত। পাকিস্তানিরা যত টাকা নিয়ে গেছে এই ক’ বছরে তার চেয়ে বেশি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে এক বছরে ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আজকে সেই টাকার পরিমাণ পাঁচ লৰ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই পাচার বন্ধে দুদকের কার্যকর ভূমিকা না থাকার সমালোচনা হয়েছে সভায়।
সংবিধান মতে দেশে সামাজিক বৈষম্য থাকবে না, ধনী-গরিবের পার্থক্য থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের লৰ্যও ছিল অসাম্প্রদায়িক-সমতাভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এই লৰ্য অর্জনে বাহাত্তরের সংবিধান বাস্তবায়নে ওয়ার্কার্স পাটি অবিচল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বক্তারা। আঞ্চলিক বৈষম্য সৃষ্টির সমালোচনা করে তারা প্রতিটি জেলায় আলাদা বাজেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এর ফলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমে আসবে, প্রত্যেক এলাকার মানুষ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার পাবে। মানুষের অধিকারই হচ্ছে প্রকৃত উন্নয়ন, সে কথাটাও উলেৱখ করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।
এ কথা ঠিক যে, আঞ্চলিক বৈষম্য ও টাকা পাচারের বিরোধিতা স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সেৱাগান ছিল। স্বাধীন দেশে প্রভুত উন্নয়ন হলেও বৈষম্য দূর হয়নি। উন্নয়নের সাথে বৈষম্যও বাড়ছে। টাকা পাচার বাড়ছে। ফলে উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমন অবস’ার অবসান জর্বরি হয়ে উঠেছে। ওয়ার্কার্স পার্টির জনসভায় এ কথাটি গুর্বত্ব পেয়েছে বক্তাদের মুখে।

শর্টলিংকঃ