উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তানোর বালিকা বিদ্যালয়ে

  • 193
    Shares

তানোর প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তানোর সদরের একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টিতে। ফলে, পুরোনো সেই মাটির ভাঙা ঘরেই শ্রেণীকক্ষ সঙ্কটের মধ্যে দিয়েই চলছে পাঠদান।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে ১৯৮৫ সালে তানোর গ্রামের মজির উদ্দিনের পুত্র মনির উদ্দিনের জমির উপর কয়েকটি মাটির ঘর তৈরি করে তানোর উপজেলার মধ্যে সর্বপ্রথম তানোর সদরে বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে ১শ গজ দুরে তানোর আব্দুর করিম সরকার ডিগ্রি কলেজটিতে চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সরকারিকরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে মাত্র ১শ গজ দুরেই তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি মডেল করার পাশাপাশি চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হলেও তানোর বালিকা বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়নি কোন ভবন। শিক্ষা গ্রহণেও বৈষম্যের স্বীকার হয়ে অবহেলায় ধুঁকে ধুঁকে কোনরকমে টিকে আছে বালিকা বিদ্যালয়টি।

দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। সেই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শুন্য রয়েছে ছয় বছর ধরে। এরই মধ্যে ছয়বার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নিয়োগ দেয়া নিয়ে লুকোচুরি চলছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মনির উদ্দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসলে পৌর আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সরকারকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সভাপতির দায়িত্ব নেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষিকা আবেদা খাতুন অবসর গ্রহণ করেন। সেই থেকেই তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এইভাবে গত ছয় বছর ধরে সাইদুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রদীপ সরকার সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রদীপ সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য চারবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেননি। পরে গত দুইবছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ডিও দিয়ে প্রদীপ সরকারকে বাদ দিয়ে তারই চাচাতো ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ওয়াজির হাসান প্রতাব সরকারকে সভাপতির দায়িত্ব দেন।

এনিয়ে তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওয়াজির হাসান প্রতাব সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সভাপতি হওয়ার পর শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তাবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরই করোনার প্রভাবের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। আবারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নির্ভর করছে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির ওপর। তবে, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ