উচ্চশিক্ষায় বেহাল দশা কেন?

উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাচীন হলেও বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হয়। অথচ এদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড়শ’রও বেশি।

উচ্চ শিক্ষার প্রধান কাজ গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা দান এবং জ্ঞান চর্চার নতুন খাত উদ্ভাবন করা। এক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের ৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর অনুপস্থিতি দুঃখজনক। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কোনো বরাদ্দই ছিল না গত বছর। ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না কোনো প্রকাশনা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক প্রতিবেদনেই এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দেশে সরকারি-বেসরকারি ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে ৬০টিতে গত বছর কোনো গবেষণা হয়নি তার মধ্যে ১২টি সরকারি ও ৪৮টি বেসরকারি। ২০টি বেসরকারি ও ৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দই ছিল না। অন্যগুলোতে ছিল নাম কা ওয়াস্তে, ৫ লাখ টাকারও কম। সরকারি ১৯টি এবং বেসরকারি ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকাশনা ছিল না।

এমন অবস্থায় উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টিই স্বাভাবিক। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সরকারের দায়ও অস্বীকার করা যায় না। সরকার উন্নয়ন-অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও গবেষণায় বাড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষাবিদদের। যদিও ইউজিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে বলা হয়েছে, সরকার গবেষণা খাতে অর্থ বাড়াতে আগ্রহী, কিন্তু অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির অভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বাড়ছে না। এ অবস্থায় টাকা দিলে অপচয়ের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা অশনি সংকেত ছাড়া আর কি ? কেন এমন পরিস্থিতির জন্ম হলো সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

গবেষণা ও জ্ঞান চর্চা ছাড়া শুধু পাঠদান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হতে পারে না। স্বাধীনতার ৫০ বছরে অন্যান্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে যখন বড় কথা শোনা যায় তখন উচ্চ শিক্ষায় এমন বেহাল দশা মেনে নেয়া যায় না।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ