ঈদে মিলাদুন্নবি হোক আলোকিত মানুষ হবার প্রেরণা

  • 49
    Shares

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি। হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জন্ম ও ওফাত দিবস এই দিন। রাজশাহীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী মানুষের কাছে দিনটি খুবই তাৎপর্যময়। মহানবির স্মরণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয় মুসলিম বিশ্বে। ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি রাসুলের জীবনী ও শিক্ষাবলী আলোচনার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলিম নর-নারী দিনটি অতিবাহিত করেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা:) কেবল ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের মাঝেই নয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। কোটি কোটি মুসলমানের মত বিশ্ববাসীর কাছেও এই মহাপুরুষের নাম অনাদি-অনন্তকাল ধরে উজ্জীবিত থাকবে, এটিই বাস্তবতা।

ঈদে মিলাদুন্নবি দিনটি পালনের মাধ্যমে মুসলিম মাত্রই আলোকিত মানুষ হবার শপথ নেয়। আল্লাহ্ ছাড়া আর কারও কাছে মাথা নত করবো না, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবো না আর আমরা পরস্পর একে অন্যকে মনিব হিসেবে গ্রহণ করবো না-মহানবির এই শিক্ষা আঁকড়ে ধরেই সাম্য, শান্তি ও মানবিকতার সমাজ গড়ে তোলা এবং অসাম্প্রদায়িকতা চর্চার মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সমতা, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠাই এ দিনের শিক্ষা। ইসলাম ধর্ম এ শিক্ষাই দেয়।

যুগ যুগ ধরে এদেশের বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায়, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্যেই বসবাস করে আসছে। ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ কখনই এদেশের জনগণ গ্রহণ করেনি। যারা সে অপচেষ্টা চালিয়েছে তারা নিজেরাই বিপর্যস্ত হয়েছে, সমূলে উৎপাটিত হয়েছে। ইসলাম ধর্মে উগ্রতার, সীমা লংঘনের স্থান নেই। ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, সাম্যের ধর্ম।

বাংলাদেশ বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের জন্য সম্প্রীতির দেশ হিসেবেই পরিচিত। বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আলোকিত, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রেরণাই হোক আজকের কামনা।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ