ইতালিতে ফিরতে হলে দিতে হবে বাসস্থানের ঠিকানা

অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারির জন্য বেশ কয়েক মাস বিমান চলাচল বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়েন বহু ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশী। গত ১৪ই অক্টোবর শর্ত সাপেক্ষে বাংলাদেশিদের ইতালিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে ফিরতে চাচ্ছেন এদের অনেকে। তবে ইতালি ফিরতে গেলে এখন প্রবাসীদের সেখানকার বাসস্থানের ঠিকানা দিতে হবে। খবর বিবিসির

টিকেট না পাওয়া, বসবাসের বৈধ ঠিকানা না থাকা এবং অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ফিরতে পারছেন না ছুটিতে বাংলাদেশে আসা এই প্রবাসীরা। এমনই একজন বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব হোসেন। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ইতালিতে থাকেন তিনি।

গত মার্চ মাসে এক মাস ২০ দিনের বার্ষিক ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আর ফিরতে পারেননি মাহবুব।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনবার বিমানের টিকেট কাটলেও সেগুলো বাতিল হয়ে গেছে। গত ১৪ই অক্টোবর ইতালিতে বাংলাদেশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবার টিকেট নেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

মাহবুব জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, যাদের রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু কাজ করার অনুমোদন রয়েছে, তারা বিশেষ ফ্লাইটে করে ইতালিতে ফিরতে পারবেন।

সে কারণেই চার্টার্ড ফ্লাইটে টিকেট কাটার চেষ্টা করছেন। ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট ইতালি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মি. হোসেন জানান, সেখানে টিকেটের দাম রাখা হচ্ছে অত্যন্ত বেশি।

আরেক ইতালি প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন যিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বরে রেসিডেন্স কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন মি. হোসেন। বেশ কয়েক বার গিয়ে খোঁজ-খবরও নিয়েছেন। কিন্তু সেটি পাস হওয়ার আগেই ছুটিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আসেন তিনি। এর পরে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আটকে পড়েন বাংলাদেশে।

মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘রেসিডেন্স পারমিট ছাড়া ইতালির বাইরে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকার নিয়ম আছে। কিন্তু আমার তো বেশি হয়ে গেছে। আমি তো আর ইচ্ছা করে থাকছি না।’

গত জুন মাসে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একটি ফ্লাইটের ৩০ জনের বেশি যাত্রীর মধ্যে করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশিদের বহনকারী বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় ইতালি।

জুলাই মাসে ইতালির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হলে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো বাড়ে। যা গত ১৪ই অক্টোবর শেষ হওয়ার পর আবার ইতালিতে ফেরার উদ্যোগ নেন প্রবাসীরা।

নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলেও ইতালি সরকার জানিয়েছে, যেসব প্রবাসীর রেসিডেন্স কার্ড বা থাকার কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই-তারা আপাতত যেতে পারবে না। ফলে আবার আটকে পড়েন অনেক প্রবাসী।

ইতালি থাকা অভিবাসন কনসালটেন্ট আক্তারুজ্জামান বলেন, ছোট একটা কনফিউশন আছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালিতে ফেরার বিষয়ে। আর সেটি হচ্ছে কারো ইতালিতে অবস্থানের অনুমতির পাশাপাশি সেখানে বসবাসের জন্য একটি আবাসস্থল থাকতে হবে।

আগে যেকোন প্রবাসী এটা নিজে নিজে ঘোষণা দিতে পারতো যে তার আবাস্থল রয়েছে। কিন্তু এখন সেটা শুধু ঘোষণা দিলে হবে না, বরং সেটি প্রমাণ করে দেখাতে হবে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ