ইউজিসির মতামতের পর রাবির দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা: ডা. দীপু মনি

ডা. দীপু মনি ও অধ্যাপক আব্দুস সোবহান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মতামতের জন্য অপেক্ষা করছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনলাইনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যাপারে যে অভিযোগগুলো এসেছে, ইউজিসি তার নিয়ম অনুযায়ী যেভাবে করে থাকে (তদন্ত) সে অনুযায়ী করছে। তদন্ত করার জন্য ইউজিসির এখতিয়ার আছে কিনা, তা কেউ চাইলেই চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু ইউজিসির যে দায়িত্ব আছে, সেটাও ইউজিসিকে পালন করতে হবে। ইউজিসির কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর যা করণীয় তা আমরা করবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ রাবি উপচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চোধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বানিজ্যসহ ১৭টি অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দফতর, শিক্ষামন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পরামর্শে অভিযোগ তদন্তে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাদী পক্ষের চার সদস্যের একটি দলকে ডেকে শুনানি করে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালে রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাদের কেউ শুনানিতে অংশ নেয় নি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া অসুস্থতার কথা জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিষয়টিকে এখতিয়ার বর্হিভূত উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান।

ওই চিঠিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, ১৯৭৩’র অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে তদন্ত করতে চাইলে উপাচার্যের মর্যাদার একধাপ উপরের পদমর্যাদার সদস্যদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে এর ব্যত্যয় ঘটেছে।’

একই চিঠিতে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত উপাচার্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের গণশুনানি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব ও উপাচার্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে খাটো করা হয়েছে।

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ