ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা চাই


শুধুমাত্র রাজশাহী জেলাতেই প্রতি বছর ৪৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে ইঁদুর। সারাদেশে এই পরিমাণ কত অনুমান করা কঠিন নয়। এর ফলে শুধু কৃষকই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশও। কৃষি বিভাগের নানামুখী চেষ্টাতেও কমছে না ইঁদুরের উপদ্রব। সোনালী সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে উৎপাদিত গমের ৩-১২ ভাগ এবং ধানের ৫-৮ ভাগ নষ্ট করে ইঁদুর। প্রতি বছর ধান ও গমসহ অন্যান্য ফসলের ১৯ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন নষ্ট হয় ইঁদুরের দ্বারা। এই ফসলের বাজার মূল্য ৪৮ কোটি টাকা।

ইঁদুর মাঠের দানা জাতীয় শস্য, শাক-সবজি, মূল ও ফলের পাশাপাশি গুদামে সংরক্ষিত ফসলেরও শতকরা প্রায় ২০ ভাগ ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, ইঁদুর প্রাণি সম্পদেরও ক্ষতি করে। মুরগির খামারে গর্ত করে, মুরগির ডিম, বাচ্চা খেয়ে ফেলে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি করে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সেচ নালাসহ বাড়িঘরের যে ক্ষতি করে তার পরিমাণ জানা যায় না।

ইঁদুরের বংশবৃদ্ধির হার এতই বেশি যে, এক জোড়া থেকে বছরে প্রায় তিন হাজার ইঁদুর জন্ম লাভ করে। রাজশাহীতে মোট ১০ থেকে ১২ প্রজাতির ইঁদুর আছে। এ সবই ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, ফলমূল বিশেষ করে শাক-সবজি, আম, লিচু, নারিকেল, পেয়ারা, সফেদা, লাউ, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ফসলের ক্ষতি করে। এরা যা খায় তার চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি নষ্ট করে। ৪০ কেজি ফসলের মধ্যে খায় ৫ কেজি, নষ্ট করে ৩৫ কেজি। এমন ক্ষতিকর প্রাণি দমনে নেই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

প্রচলিত ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে কাজ করছেন পেশাদার ইঁদুর শিকারি, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মীরা। সাধারণত দুই ধরনের পদ্ধতিতে ইঁদুর দমন করা হয়। পরিবেশ সম্মতভাবে এবং বিষ প্রয়োগ বা রাসায়নিক পদ্ধতির মাধ্যমে। পেঁচা, গুইসাপ, বেজি, শেয়াল, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণির প্রধান খাদ্য ইঁদুর। এই উপকারী প্রাণিগুলোকে সংরক্ষণ করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ ইঁদুর সমস্যা অনেকাংশেই কমে আসবে। কিন্তু এসব প্রাণির সংখ্যা কমে যাচ্ছে মানুষের দ্বারাই। ফলে বিষ প্রয়োগে ইঁদুর দমন বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে ইঁদুরের সাথে উপকারী প্রাণির সংখ্যাও কমছে। তাই গত বছর মোট ৮৭ হাজার ২৪১ টি ইঁদুর মারার পরও রাজশাহীতে ফসলের ক্ষতি কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় ইঁদুর নিধন অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত উপায়ে ইঁদুর দমনের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এতে সম্পৃক্ততা বাড়াতে গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষা কঠিনই থেকে যাবে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ