আম গাছে আসছে গুটি

শিরিন সুলতানা কেয়া: রাজশাহীর বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় আমের মুকুল। আমের মুকুলের ভেতর দু’একটি করে এখন গুটিও দেখা দিচ্ছে। আমের মুকুল আর গুটি টিকিয়ে রাখতে চাষিরাও ব্যস্ত পরিচর্যায়। তৎপর জেলা প্রশাসনও। লক্ষ্য, মুকুল থেকে বাজারজাতকরণ সবই হবে ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত। সেটি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন গঠন করেছে বিশেষ তদারকি কমিটি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৯ হাজার হেক্টর জমির আমবাগানে গত বছর ২ লাখ সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। তবে এবার এখনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেনি কৃষি বিভাগ। তবে গেলবারের চেয়ে এবার বাগানে বেশি মুকুলের সমারোহ। রাজশাহীর বাগানগুলোতে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাতসহ আড়াইশো জাতের গাছে মুকুল এসেছে শতভাগ। সেসব মুকুল এখন গুটিতে পরিণত হতে শুর্ব করেছে। বিষমুক্ত আম উৎপাদনে মৌসুমের শুর্বতেই তৎপরতা বাড়িয়েছে প্রশাসন।
বাগান মালিকদের জানানো হয়েছে মুকুল কিংবা গুটির পরিচর্যায় ব্যবহার করা যাবে না হরমোন বা ফলবর্ধক রাসায়নিক ও ক্ষতিকর কীটনাশক। রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার আমচাষি আরশাদ আলী বলেন, আমের মুকুল এখন গুটিতে পরিণত হচ্ছে। তবে কোনো প্রকার রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে না। গাছের গোড়ায় শুধু জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে। যেহেতু এ বছরে কীটনাশক ছাড়া আম উৎপাদন হবে, আশা করি ফলন ও স্বাদ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, ফল গবেষণা কেন্দ্র নিরাপদ আম উৎপাদনে বাগান মালিকদের করণীয় সর্ম্পকে অবহিত করছে নিয়মিত। গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদন করার জন্য কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। সে সাথে ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামশর্ও দেয়া হচ্ছে।
এদিকে এবার মুজিববর্ষে রাজশাহীতে শতভাগ রাসায়নিকমুক্ত আম উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিষমুক্ত আম হবে দেশবাসীর জন্য রাজশাহীর মানুষের মুজিববর্ষের উপহার। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম বাগান মালিকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে ও ভোগান্তি ছাড়া বাজারজাত করতে পারেন তার জন্য সব ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে আমের ন্যায্যমূল্য সঠিকভাবে পান সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ