আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা লোপাটকারীদের শাস্তির দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগের আদিবাসী স¤প্রদায়ের মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য ১২ লাখ টাকা বৃত্তি দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিকে এ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীদেরও নাম তালিকায় রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা টাকা পাননি। আবার একাডেমির নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনদের সন্তানদেরও নাম রয়েছে তালিকায়। অভিযোগ উঠেছে এভাবে বৃত্তির বেশিরভাগ টাকা লোপাট করা হয়েছে।
এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন থেকে বৃত্তি বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডুসহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি দাবি করা হয়। একইসঙ্গে একাডেমিতে আদিবাসীবান্ধব কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে কালচারাল একাডেমির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য। কিন্তু সেটা বর্তমানে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে বিএনপিপন্থী ব্যক্তিরা আধিপাত্য দেখাচ্ছেন। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিনি বেনজামিন টুডুসহ জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে অপসারণ দাবি করেন। একাডেমির সাবেক সদস্য বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, একডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু বিএনপির সময় নিয়োগ পেয়ে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা করেই চলেছেন। তার অপসারণের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কেন্দ্রীয় সদস্য বিভ‚তী ভ‚ষণ মাহাতো, আদিবাসী যুব পরিষদের জেলার সভাপতি উপেন রবিদাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য উত্তম মাহাতো কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ অনিল রবিদাস ও দপ্তর সম্পাদক পলাশ পাহান।
এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী বরজাহান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, ন্যাপের জেলার সাধারণ সম্পাাদক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদের রাজশাহীর সভাপতি রঘুনাথ রবিদাস, জনউদ্যোগের রাজশাহীর ফেলো জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, ইয়্যাসের রাজশাহীর কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক প্রমূখ। মানববন্ধনে আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি নকুল পাহান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তরুণ মুÐা।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাজশাহী বিভাগের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য গত বছর ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৭ মে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বৃত্তি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হয়। পরে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বৃত্তির জন্য যোগ্য হিসেবে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর তালিকা স¤প্রতি প্রকাশ করা হয়। তবে এই তালিকায় নিজেদের ইচ্ছামতো শিক্ষার্থীদের নাম দেয়া হয়। তবে এদের অনেকেই সেই টাকা এখনো হাতে পাননি। তাদের টাকা লোপাট করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি এবং রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর আমরা রাজশাহীেেত বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করে আদিবাসীদের বৃত্তির টাকা লোপাট করবেন তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে একাডেমি থেকে অপসারণ করতে হবে। তারপর সেখানে আদিবাসীবান্ধব কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে, যাতে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়।

শর্টলিংকঃ