আদর্শের প্রতীক ম্যারাডোনা।।ফজলে হোসেন বাদশা

একজন ফুটবল তারকাও আদর্শের প্রতীক হতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ ম্যারাডোনা। দক্ষিণ আমেরিকার সকল প্রগতিশীল বিপ্লবী নেতারা ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ।

আমেরিকার পুজিতান্ত্রিক আধিপত্যবাদের সাথে ছিল তার গভীর বিরোধ। তিনি সমাজতান্ত্রিক কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে বলতেন দ্বিতীয় পিতা।

মার্কিনীদের তোয়াক্কা না করে কিউবা তার প্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে প্রকাশ্যেই দেখিয়েছেন। ল্যাটিন আমেরিকার জনপ্রিয় বিপ্লবী ‘চে’র ট্যাটু তার হাতে। ব্রাজিলে বামপন্থী নেতা লুলা কিংবা ভেনেজুয়েলার হুগো সাভেজ যখন বিশ্বপরিচিত- তখন ফুটবলার ম্যারাডোনা তাদের বন্ধু। এই বন্ধুত্ব আদর্শগত, এ বন্ধুত্ব বৈষম্যহীন এক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

ইংল্যান্ডের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় এক ফুটবল ম্যাচের কথার মনে পড়ে। ম্যারাডোনা সেই ম্যাচে বিশ্বের এক সেরা গোল দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের সাথে সে জয়কে যুদ্ধজয় বলে মনে করা হয়েছিল।

বিশ্ব মানচিত্রে তিনি শ্রেষ্ঠ ফুটবলার, কিন্তু পৃথিবীর বহু দেশের মানুষের কাছে তিনি আদর্শ ছিলেন। সে কারণেই পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমে তিনি স্থান পেয়েছেন বটে কিন্তু বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যসহ। পেলে তার বন্ধুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে মন্তব্য করেছেন- একদিন আমরা স্বর্গে ফুটবল খেলবো।

আমাদের এই উপমহাদেশে ফুটবলের রাজনীতির চর্চা আমরা দেখেছি। যেমন কলকাতার মাঠে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান-মোহামেডান। ঢাকার মাঠের এক চিত্র। কিন্তু ডিয়াগো ম্যারাডোনার রাজনীতি ছিল আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির। সেটা ছিল মানবতার মুক্তির। সমাজ পরিবর্তনের আদর্শ তিনি বহন করেছেন ফুটবলের মাঠে। আমার গভীর শ্রদ্ধা ম্যারাডোনাকে।

লেখক: রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ