আত্রাইয়ে দুই বছর ধরে একঘরে এক পরিবার

  • 8
    Shares

আত্রাই ( নওগাঁ ) প্রতিনিধি: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের একটি পরিবারকে দুই বছর ধরে একঘরে করে রেখেছেন গ্রামের প্রধানরা। ফলে অমানবিক জীবন-যাপন করছে ওই পরিবারটি। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে ভূক্তভোগী পরিবার প্রধান আব্দুস সাত্তার।

আব্দুস সাত্তার বলেন, দুই বছর আগে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ধরে পরবর্তিতে সামাজিক ভাবে স্থানীয় চেয়ারম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিবাহ হয়। বিয়ের পর তারা সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করে আসছে। পরবর্তিতে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার গ্রাম প্রধান এরশাদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, আনিছার রহমান (ভোলা), শাহিন, মন্টু ও রফিক গ্রাম্য শালিস ডেকে আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবারকে এক ঘরে করে রাখে।

আব্দুস সাত্তার বলেন, তার তিন মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়স্বজনরা তার বাড়িতে আসতে পারছেন না। এমন কি বিগত দুই বছর ধরে গ্রামের কোন অনুষ্ঠান, বিবাহ, মৃত্যুর অনুষ্ঠানে তাকে এবং তার পরিবারকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। গত দুই বছর ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও তাকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি।

এ বছর কোরবানি গ্রামের অন্য মানুষের সাথে ভাগে দিতে টাকা প্রদান করা হলে সে টাকা ফেরত প্রদান করা হয়। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে গ্রামের অন্যান্য পরিবারের সহিত যোগাযোগ করা হলে তাদের কেউ বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হয়। ফলে তিনি অমানবিক জীবন-যাপন করছেন।

এ বিষয়ে গ্রাম প্রধান এরশাদ আলী আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আপনারা গ্রামে আসুন, বৈঠকের মাধ্যমে সব কিছু জানানো হবে, তবে আমি এককভাবে আপনাদের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা জানাতে বা বলতে রাজি নই। অপরদিকে গ্রাম প্রধান জাহিদুলের সাথে কথা বললে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হন নাই।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্লা জানান, এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে বিষযটি মৌখিকভাবে জানান। পরবর্তিতে আমি ওই সব গ্রাম প্রধানকে আমার ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি অবহিত করি এবং আব্দুস সাত্তারকে এক ঘরে থেকে অব্যহতি দিয়ে সকলে গ্রামে একসাথে বসবাস, চলাফেরা করার জন্য নির্দেশ দেই।

কিন্তু গ্রাম প্রধানরা এখনো পর্যন্ত আমার কথা রাখে নাই। আইনের কোন বিধান নাই, কাউকে যে কোন বিষয়ে গ্রাম প্রধানরা এক ঘরে করে রাখতে পারে। গ্রামের কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ বা অন্যায় করে থাকলে তার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, থানা পুলিশ আছে। সেখানে অভিযোগ করা উচিত। কেহ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তার জন্য সে ব্যক্তি নিজেই দায়ি হবেন। এ বিষয়ে ভ’ক্তভোগি আব্দুস সাত্তার উদ্ধর্তন মহল ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ