পরম শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ^জুড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। বাংলাদেশের মানুষও উদ্বিগ্ন। তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পরিধি কমিয়ে আনা হয়। তারপরেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ককে উপেক্ষা করে রাজশাহীর মানুষ সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেছেন শ্রদ্ধাভরে। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে তার প্রতিকৃতিগুলো।
করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে যারা সমবেত হয়েছেন তাদের কথা, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনের মায়া করেননি কখনও। দেশদ্রোহের অভিযোগে প্রাণদÐের ঝুঁকি থাকা সত্তে¡ও করেছেন পাকিস্তানের বিরোধীতা। এই মহামানবের জন্ম না হলে বাংলাদেশেরও জন্ম হতো না। তাই তার জন্মশতবর্ষে করোনার ভয় কাউকে ঘরে রাখতে পারেনি। সমবেত হয়ে সবাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন জাতির পিতাকে।
গতকাল মঙ্গলবার ছিলো জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ। শিশু দিবসও এ দিন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিববর্ষ উদযাপনের ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতরাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মুজিববর্ষের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। গতকাল বেশ বড় আকারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার ঘোষণা ছিলো। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজশাহীতে যে আয়োজন হয়েছে তাও ছোট বলা যাবে না।
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন করেছে। এ উপলক্ষে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিসহ ব্যানার-ফেস্টুন। গতকাল দিনভর মাইকে প্রচার করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।

নগর আ’লীগ
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কুমারপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ের পাশে স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মহানগর আওয়ামী লীগ। এ সময় খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও ছিলেন মেয়রপতœী শাহীন আকতার রেণী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এরপর থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বেলুন উড়িয়ে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও মুজিববর্ষের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটা হয়। এরপর দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী, মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, রেজাউল ইসলাম বাবুল, নাঈমুল হুদা রানা, সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এএসএম ওমর শরীফ রাজীব, সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফ ম আ জাহিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, আসাদুজ্জামান আজাদ, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, সাবেক সদস্য আহসানুল হক পিন্টু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন প্রমুখ।

জেলা আ’লীগ
জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকাল ৪টায় নগরীর অলকার মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মোনাজাত ও কেক কাটা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপিত মেরাজ উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী, পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. হাসমত দৌলা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আখতার মিতা, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নার্গিস শেলী, সাধারণ সম্পাদক বিপাশা খাতুন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন মেরাজ প্রমুখ। রাতে আতশবাজি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

জেলা প্রশাসন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। গতকাল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। একই সময় সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটা হয়।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার, নগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক হামিদুল হক, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সালমা বেগম, জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারা প্রত্যেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাসিক
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবন চত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এরপর রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণকালে রাসিকের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু, প্যানেল মেয়র-৩ তাহেরা খাতুন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম, আব্দুল হামিদ সরকার, আব্দুল মোমিন, আরমান আলী, বেলাল আহম্মেদ, তরিকুল আলম পল্টু, রবিউল ইসলাম, তৌহিদুল হক সুমন, কামরুজ্জামান কামরু, রবিউল ইসলাম তজু, নুরুজ্জামান টুকু, মাহাতাব হোসেন চৌধুরী, আব্দুস সোবহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা, আনোয়ারুল আমিন, কামাল হোসেনসহ জোন কাউন্সিলরবৃন্দ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আকতার জাহান, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী প্রমুখ ছিলেন। এছাড়া দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নগর ভবনসহ সকল শাখা অফিস ওয়ার্ড কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বাদ জোহর নগরীর মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন ও রাত আটটায় আতশবাজি।

জেলা ছাত্রলীগ
রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে গতকাল নগরীর ল²ীপুর মোড়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দিবসের প্রথম প্রহরেই নগরীর ল²ীপুর মোড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে ফানুস ওড়ানো হয়।

তথ্য অফিস
আঞ্চলিক তথ্য অফিস সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করে। এ উপলক্ষে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপপ্রধান তথ্য অফিসার আফরাজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার ফারুক আব্দুল মুনিম এবং জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কার্যালয়ে আলোকসজ্জাও করা হয়েছে।

অ্যাডভেন্টিস্ট স্কুল
অ্যাডভেন্টিস্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল রাজশাহী ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল সকালে কেক কেটে দিবসটি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পিটার মিল্টন বিশ্বাস। শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ছবি আঁকার পাশাপাশি তাদের মধ্যে গ্রাফিক নভেল মুজিব বিতরণ করা হয়।

কোর্ট কলেজ
রাজশাহী নগরীর কোর্ট কলেজে গতকাল সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। এসব কর্মসূচিতে কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম কামরুজ্জামান, উপাধ্যক্ষ রবিউল আলম, স্টাফ কাউন্সিলের সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ, সহসম্পাদক আল মামুন কবিরসহ অন্যান্য সকল শিক্ষক অংশ নেন।

শর্টলিংকঃ