আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করলে জেলা আ’লীগের কমিটি বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর। এই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের নাম ঘোষণা করা হয়। সেদিন এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য এই চার নেতাকে নির্দেশ দিয়ে যান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু প্রায় তিনমাসেও এই কমিটি হয়নি।
এরই মধ্যে গতকাল রোববার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই সম্মেলনে এসে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ সময় ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা না হলে সম্মেলনে ঘোষণা করা কমিটি ভেঙে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তারা গত বছরের ডিসেম্বরে বিশাল প্যান্ডেল করে সম্মেলন করেছিল। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিল অধিবেশন বসা হয়েছিল। সেই সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেই কমিটি হলো সেই ডিসেম্বরের ১২ তারিখ আর আজকে মার্চের ১ তারিখ। সবচেয়ে দুঃখজনক হল সেই কমিটির কোনো সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারলাম না।
তিনি বলেন, এভাবে একটি সংগঠন চলতে পারে না। শুধু দুই জনের পরিচয়ের জন্য একটি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় না। উনারা পরিচয় দিয়ে বলবে, আমি সভাপতি আর আমি সাধারণ সম্পাদক। আর বাকিরা লজেন্স চুষবে? আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করা হয়, তাহলে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে জেলা কমিটি গঠন করা হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণার সময়ও এ ব্যাপারে সতর্ক করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য মহানগরকে এক মাস সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। তা না হলে কমিটি ভেঙে দেবো।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা এবং এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং দুই নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়।
এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে। সম্মেলনের আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক থাকা আসাদুজ্জামান আসাদকে বাদ দেয়ার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি নতুন নেতারা। তবে সম্মেলনের পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নগরীর ল²ীপুর মোড়ের আগের দলীয় কার্যালয়টি চালু করেছিলেন আসাদ। নতুন কার্যালয় রাণীবাজারে।
১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠন করার নির্দেশনার ব্যাপারে কথা বলতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা ফোন ধরেননি। তবে যুগ্ম সম্পাদক আয়েন উদ্দিন বলেছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা কমিটি করবেন।
এতো দিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে ৪০০ থেকে ৫০০ নেতা রয়েছেন। এদের মধ্যে থেকে ৭৫ জনকে বাছাই করা আসলেই কঠিন কাজ। সে জন্যই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে এবার হয়ে যাবে।

শর্টলিংকঃ