আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিকদের কি হবে?

  • 9
    Shares

আখমাড়াই মৌসুম শুরু হলেও চিনিকল খোলার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। ফলে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী এবং আখচাষিদের হতাশা বেড়ে গেছে। রাজশাহী চিনিকলের আওতাধীন প্রায় ১৮ হাজার চাষি জমিতে আখ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। একইভাবে বেকায়দায় ৬২২ জন শ্রমিক-কর্মচারী। তাদের ৫/৬ মাসের বেতন-ভাতা বাকি পড়েছে। এ অবস্থায় দেশের সবকটি চিনিকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু রাখার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী ও নাটোরে সমাবেশ হয়েছে।

দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ১৫টি চিনিকলের ১০টি বেসরকারি মালিকানায় দেবার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিরা। তারা প্রতিটি চিনিকল এলাকায় প্রতিবাদী সমাবেশ করছেন এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।

সাধারণত প্রতিবছর নভেম্বর মাসেই চিনিকলের আখমাড়াই মৌসুম শুরু হয়। তখন চিনিকলের বয়লার স্লো ফায়ারিং করা হয়। পাশাপাশি আখ নেয়াও শুরু হয়। এবার নভেম্বর মাস শেষ হতে চললেও এ সবের আলামত না দেখে সবার মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী চিনিকলের আওতায় প্রায় ১৮ হাজার আখচাষি রয়েছেন। এদের বেশিরভাগ প্রতিবছর চিনিকল থেকে নগদ অর্থসহ সার, কীটনাশক, বীজ ঋণ হিসেবে নিয়ে থাকেন। চলতি মাড়াই মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এই মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে চিনিকলের গুদামে পড়ে আছে ১৮শ মেট্রিকটন অবিক্রিত চিনি। এ অবস্থায় খেতের আখ সময়মতো কাটা ও মিলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন আখচাষিরা।

একইভাবে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ৫-৬ মাসের বকেয়া বেতনসহ সকল পাওনাদি এবং অবসরপ্রাপ্তদের টাকা পরিশোধসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। চিনিকল রক্ষার দাবিতে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে অন্যরা যেখানে সরকারি প্রণোদনা, সাহায্য-সহায়তা পাচ্ছে সেখানে আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের চরম অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেবার কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। দেশের ঐতিহ্যবাহী চিনিশিল্প রক্ষায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবারই জাতীয় স্বার্থেই এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দাবি করে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ