অ্যালকোহল বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক: মদ বা অ্যালকোহলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিধিমালা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ক্ষমতাবলে খসড়া এই বিধিমালা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা এ বিধিমালার খসড়া বর্তমানে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং নেওয়ার পর এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশে মদ উৎপাদন, পান ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা না থাকায় অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার নানা ঘটনা ঘটে। গত এক মাসে নির্ভেজাল অ্যালকোহলের অভাবে নকল ও বিষাক্ত মদ খেয়ে সারাদেশে অন্তত ৩৫ জন মারা যান। তখন অনেকে অভিমত দেন, অ্যালকোহল সেক্টরে একটি নীতিমালা থাকা জরুরি।

জানা গেছে, অ্যালকোহল বিধিমালা তৈরিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি কমিটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছে। এর পর সম্প্রতি এটি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কমিটি বলছে, এ বিধিমালা অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২০ বলে অভিহিত হবে। ভেটিং শেষে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে এটি কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আগে অ্যালকোহল ব্যবস্থাপনায় ৬টি পৃথক ম্যানুয়াল অনুসরণ করা হতো। এখন বিধিমালার খসড়া সম্পন্ন হওয়ায় একই ছাতার নিচ থেকে অ্যালকোহলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাবে। অ্যালকোহলের বহুমাত্রিক ব্যবহার রয়েছে। ওষুধ, নির্মাণ শিল্প ও ফার্নিচারের কাজে অ্যালকোহল দরকার হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশে অ্যালকোহলের ব্যবহার অবশ্যই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে এই নিয়ন্ত্রণ সর্বগ্রাসী হলে ইয়াবা বা ফেনসিডিলের মতো মাদকের রাজত্ব বেড়ে যাওয়ার সর্বাত্মক ঝুঁকি থাকে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক মুসলিমপ্রধান দেশে অ্যালকোহল এবং এ জাতীয় পানীয় অনেক সহজলভ্য। সে তুলনায় নানা বিধিবিধান ও আইনি বেড়াজালে বাংলাদেশে এটি যেন দুর্লভ পানীয়তে পরিণত করা হয়েছে। অ্যালকোহলের বাজারে প্রায়ই সংকট দেখা দেয়। তখন বিষাক্ত ও ভেজাল মদ বাজারে ছাড়ে অসাধু চক্র। আর বিষাক্ত মদ খেয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা।

প্রস্তাবিত বিধিমালার শুরুতে অ্যালকোহল ও সংশ্নিষ্ট যেসব পানীয় রয়েছে তার সংজ্ঞা দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ যেমন ‘বিলাতি মদ’ বলতে কী বোঝায়, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনুমোদিত ফর্মুলা অনুসারে দেশীয় কোনো ডিস্টিলারি বা লাইসেন্সধারী ব্যক্তির মাধ্যমে প্রস্তুত করা, প্রক্রিয়াজাত করা এবং বোতলজাত যে কোনো অ্যালকোহলিক পানীয়কে বোঝানো হবে। আমদানি করা শতকরা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের অধিক অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার, ওয়াইনসহ যে কোনো অ্যালকোহলিক পানীয়কে বোঝানো হবে। ‘স্পিরিট’-এর সংজ্ঞায় বলা হয়- দেশি, বিলাতি মদ, বিদেশি মদ, ওয়াইন, বিয়ার ছাড়া অন্য সব ইথাইল অ্যালকোহল এর পর্যায়ভুক্ত।

বারের লাইসেন্স বা অফ শপ লাইসেন্স: হাতে আসা খসড়া অ্যালকোহল বিধিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়; কারা কীভাবে বার বা অফ শপের লাইসেন্স পাবেন, সেটা সুনির্দিষ্ট করা রয়েছে। অফ শপ বলতে বোঝানো হয়, এমন কোনো স্থান যেখান থেকে বিদেশি ও পারমিটধারী দেশীয় নাগরিকরা মদের বোতল বা ক্যান বন্ধ অবস্থায় কিনে বহন করতে পারবেন। বিধিমালায় উপযুক্ততা ও বাস্তবতার নিরিখে যে কোনো দুই তারকা মানের হোটেল একটি বারের লাইসেন্স নিতে পারবে। তিন তারকা হোটেলে সর্বোচ্চ দুটি বার চলতে পারে। চার তারকা মানের হোটেলে সর্বোচ্চ তিনটি বার এবং পাঁচ তারকা বা তার অধিক মানের হোটেলে সর্বোচ্চ ৭টি বার লাইসেন্স থাকতে পারবে। পাঁচ তারকা হোটেলে সাতটির বেশি বারের প্রয়োজন হলে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে তা পাওয়া যাবে। পর্যটন, কূটনৈতিক বা অভিজাত এলাকার রিসোর্টে একটি বার লাইসেন্স থাকবে। এয়ারপোর্টের রেস্টুরেন্টে একটি, ক্লাবে একটি ও ডিউটি ফ্রি শপে আগমন বা বহির্গমন ও ট্রানজিটের জন্য পৃথকভাবে একটি অফ শপ লাইসেন্স রাখা যাবে।

ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউস: বিধিমালায় বলা হয়, সব ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডের ওয়্যার হাউসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মনোনীত একজন প্রতিনিধির পদায়ন থাকবে। ওই প্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে মদ জাতীয় পানীয় সংরক্ষণ, সরবরাহ, বিক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। যথাযথভাবে বিক্রয়, সরবরাহ ও মজুদ রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। বিক্রয় রেজিস্টারে ক্রেতার নাম, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট নম্বর, শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত পাস বই, জাতীয়তা, ক্রয়কৃত পণ্যের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড হাউস খোলা ও বন্ধের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। এই ওয়্যার হাউস থেকে বিদেশি কূটনৈতিক বা শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ী প্রদত্ত পাস বইধারী নির্ধারিত পরিমাণ মদ জাতীয় পানীয় কিনতে পারবেন।

অভিযোগ আছে, বন্ডেড ওয়্যার হাউস থেকে অনেক প্রভাবশালী অবৈধ পথে শুল্ক্কমুক্তভাবে মদ ক্রয় করেন। কিন্তু এই মদ বিদেশির কাছে বিক্রি করার কথা। তবে অবৈধভাবে এই মদ দেশীয় বার, রিসোর্ট, হোটেলে সরবরাহ করা হয়। বর্তমান প্রশাসন ওয়্যার হাউস থেকে অবৈধভাবে বাইরে যে চেইনের মাধ্যমে মদ যেত তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে সম্প্রতি বাজারে বৈধ মদের সংকট দেখা দেয়। ওয়্যার হাউসে এখন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো বিদেশি নাগরিকও তার পাসপোর্ট দেখানো ছাড়া মদ কিনতে না পারেন।

মদ ও মদ জাতীয় পানীয় পানের পারমিট ইস্যুর প্রক্রিয়া: কোনো মুসলমান নাগরিকের ক্ষেত্রে মদ বা মদ জাতীয় পানীয় পানের পারমিট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে সংশ্নিষ্ট অফিসে আবেদন করতে হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, এই পারমিটের মেয়াদ হবে এক বছর। এটা নবায়নযোগ্য নয়। একই ব্যক্তির নামে বিলাতি মদ ও দেশি মদের পারমিট ইস্যু করা যাবে না। ক্লাবের ক্ষেত্রে পারমিটধারী সদস্যরা ক্লাবের নির্ধারিত স্থানে বসে মদ পান করতে পারবেন। মুচি, মেথর, ডোম, ঝাড়ূদার, চা বাগানের শ্রমিকসহ এ ধরনের পেশার লোকজন পারমিট নিয়ে দেশি মদ পান করতে পারবেন।

মদ আমদানি: বার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ক্লাব, বন্ডেড ওয়্যার হাউস, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউস ও ডিউটি ফ্রি শপ মদ আমদানি করতে পারবে। প্রত্যেকবার মদ আমদানির আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। আমদানিকারক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ছকে মদ ও মদ জাতীয় পানীয়র বিগত এক বছরের বেচাকেনার হিসাব বিবরণী দাখিল করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হোটেল বা রেস্টুরেন্ট আমদানি নীতি অনুসরণ করে আমদানি করবে। রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, মোটেল ও বারের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ পর্যটন করপোরেশন এবং বাকি ৬০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত উৎস থেকে মদ ও মদ জাতীয় পানীয় সংগ্রহ করতে পারবে। যেসব ক্লাবে মদ্যপানের পারমিটধারী সদস্য সংখ্যা দু’শ বা তার বেশি তাদের বার্ষিক চাহিদা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বিলাতি মদ বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে।

অনুমোদন সাপেক্ষে বছরে একবার ভ্যাট ব্যতীত সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা মূল্যমানের বিলাতি মদ পর্যটন করপোরেশন থেকে নির্ধারিত শুল্ক্ক পরিশোধের মাধ্যমে কেনা যাবে। আর সরকারের নির্ধারিত ডিস্টিলারি ছাড়া অন্য কোনো ডিস্টিলারিকে দেশি মদ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাইকারিভাবে সরবরাহ বা বিক্রয় করার লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ এবং যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ব্যবহার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে অ্যালকোহল বা বিয়ার উৎপাদন নিষেধ থাকবে। সরকার নির্ধারিত উপাদান বা উপকরণ ব্যতীত বাণিজ্যিক শিল্প বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অ্যালকোহল বা বিয়ার উৎপাদন বা উপকরণ মিশ্রিত করা যাবে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত বোতল বা ক্যান ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত বিয়ার বাজারে ছাড়া যাবে না।

রেক্টিফায়েড স্পিরিট: ডিস্টিলারি লাইসেন্স ছাড়া রেক্টিফায়েড স্পিরিট উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা যাবে না। তবে খুচরা বিক্রয়ের জন্য লাইসেন্স নেওয়া যাবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুটির শিল্প ও যে কোনো চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যবহারে অনূর্ধ্ব ২ লিটার পর্যন্ত রেক্টিফায়েড স্পিরিট খুচরা বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। কোনো পাইকারি লাইসেন্সধারী খুচরা রেক্টিফায়েড স্পিরিট বিক্রয় করতে পারবেন না। কোনো অবস্থায় বিলাতি মদ বা দেশি মদের কোনো বিক্রয় স্থানে এই স্পিরিট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। রেক্টিফায়েড স্পিরিট বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে না। তবে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো অ্যালোপ্যাথিক বা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বা অনুমোদিত শিল্পে ব্যবহার্য নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন রেক্টিফায়েড স্পিরিট বা ইথাইল অ্যালকোহল দেশে উৎপাদন না হলে বা উৎপাদনে যৌক্তিকভাবে ঘাটতি থাকলে বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমদানি করা যাবে।

চোলাই মদ ও তাড়ি: নতুন বিধিমালায় বলা হয়- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ব্যক্তিদের মদপানের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত জেলা মাদকনিয়ন্ত্রণ ও প্রচার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিলাম ডাকের মাধ্যমে চোলাই মদের মহালের সংখ্যা ও অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) এর ১৪ ধারা অনুসারে চোলাই মদ প্রস্তুত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রির অনুমতি প্রদান করা যাবে। ২১ বছরের নিচে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এমন কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে পানের জন্য চোলাই মদের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। লাইসেন্সে উল্লিখিত স্থানেই চোলাই মদ বানাতে হবে। এ ছাড়া বিধান মেনে ডাকযোগ্য সর্বোচ্চ নিলামধারীকে তাড়ি উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া যেতে পারে।

বোতলে ক্ষতিকর দিকের নির্দেশনা: খসড়া বিধিমালায় বলা হয়- প্রত্যেক দেশি ও বিলাতি মদ, বিয়ার বা এই জাতীয় পানীয়র বোতল, মোড়ক বা পাত্রের গায়ে ‘মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, আইনের বিধান ব্যতীত মদ্যপান দণ্ডনীয় অপরাধ’- এ কথা লাল কালিতে সুস্পষ্টভাবে লিখতে হবে। লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কোনো আইনসংগত কার্যক্রম বা আদেশের কারণে কোনো লাইসেন্সধারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না। খসড়ায় এও বলা হয়- একজন লাইসেন্সধারী এককালীন সর্বোচ্চ তিন ইউনিট এবং মাসে সাত ইউনিটের বেশি মদ কিনতে পারবেন না।

বহন ও পরিবহন: পারমিট বা পাসধারী ছাড়া অন্য কেউ অ্যালকোহল বা বিয়ার এবং এ জাতীয় কোনো পানীয় বহন করতে পারবেন না। এ জন্য আবেদন করতে হবে। এই পাস নিয়ে এসব বহন করা যাবে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে অ্যালকোহল এবং বিয়ার বহন বা পরিবহন করা যাবে। তবে পাসের ওপর অবশ্যই পরিবহন পথ লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। মাসে উল্লিখিত রুট ছাড়া অন্য কোনো পথে এসব পরিবহন করা যাবে না। এ ধরনের পানীয় পরিবহনের জন্য পাসের মেয়াদ থাকবে এক মাস। কোনো পরিবহন সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের পানীয় স্থানান্তর করতে চাইলে পাসের একটি সত্যায়িত ফটোকপি পাত্র, বাক্স বা মোড়কের গায়ে ভালোভাবে সেঁটে দিতে হবে। বিধিমালায় এও বলা হয়- লাইসেন্স করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই মদ বা মদ জাতীয় পানীয়র সঙ্গে ভেজাল কিছু মেশাতে পারবে না।

সোনালী/জেআর

শর্টলিংকঃ