অর্থপাচারকারী বেঈমানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য

দেশ থেকে অর্থপাচারের ঘটনা নতুন নয়। তবে ইদানিং এই আলোচনা একটু বেশি হচ্ছে। ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আত্মসাৎকৃত ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থপাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়াতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। সর্বশেষ কানাডার বেগমপাড়ায় অর্থপাচারকারীদের মধ্যে রাজনীতিকদের চেয়ে সরকারি আমলাদের সংখ্যা নিয়ে করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

এই খবরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ অর্থপাচারকারী সরকারি কর্মকর্তা কারা তা জানতে চেয়ে বিদেশে অর্থপাচারকারীদের দেশ ও জাতির শত্রু বলে অভিহিত করেছেন।

আদালত বলেছেন, অনেকে হিউজ পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। দেশে লেখাপড়া করে, দেশের মাটিতে থেকে, দেশের বাইরে টাকা পাচার করা বেঈমানি। তাদের নাম-ঠিকানা জানা দরকার। না হলে অপরাধ কমবে না। আদালতের আদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন অবৈধ হবে নাÑতা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের এই আদেশ যুগান্তকারী বলা যায়। স্বতঃপ্রণোদিত এই আদেশ অর্থপাচারকারী জাতীয় বেঈমানদের আইনের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করবে এমন আশা করা বাড়াবাড়ি হবে না নিশ্চয়ই। এমনটা হলেই দেশ থেকে অর্থপাচারের রশি টেনে ধরা সম্ভব হবে এবং অবাধ হয়ে ওঠা দুর্নীতি কমে আসবে। আমরা উচ্চ আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন যথাযথ দেখতে চাই।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ