অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস’া নিন

নাটোরের বড়াইগ্রামে এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বড়ালনদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে ওই এলাকায় নদী তীরবর্তী দুটি গ্রামের ঘরবাড়ি, সেতু ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে স’ানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে উত্তোলনকারীদের দাবি, পাশের রাস্তা পাকাকরণের জন্যই এ বালু তুলছেন তারা। কিন’ স’ানীয়দের আপত্তি স্বত্ত্বেও প্রতিদিন বালু তুলছেন তারা। এভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু তোলায় এলাকার ফসলি জমি, সেতু ও বিভিন্ন স’াপনা হুমকির মুখে পড়েছে। দৈনিক সোনালী সংবাদে এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাসিন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, বালু উত্তোলনকারীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস করছে না। তারপরও বালু তুলতে নিষেধ করা হলেও তারা তা না মেনে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় স’ানীয় সেতুসহ নদীর তীরবর্তী কুমারখালী ও আদগ্রামের শত শত বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করায় ভরা বর্ষায় বসতভিটা, পানবরজ, ফসলি জমি ও পাশের সেতু নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
২০১০ সালে বালু উত্তোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, রেললাইনসহ মূল্যবান স’াপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা বেআইনি। অথচ এৰেত্রে বালুদস্যুরা সরকারি ওই আইন অমান্য করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
আর শুধু নাটোরের বড়াল নদীতেই নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক খবর দেখা যায়। অবৈধ বালু উত্তোলন ক্ষতিকর-এ ব্যাপারে মোটামুটি সবাই একমত। কিন’ তা কতটা ক্ষতিকর বা এর প্রভাব আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে কতটা পড়ছে, তা নিয়ে আরও ভাবনা জর্বরি হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী সম্পদ আহরণের ফলে পরিবেশের ওপর উলেৱখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। তবে কয়লা বা সোনা উত্তোলনের চেয়ে বালু উত্তোলনের নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলক কম। উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই বালু উত্তোলন হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে বালু উত্তোলনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। দারিদ্র্যবিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর নতুন আবাস ও নতুন জলাধার সৃষ্টিতে এর অবদান রয়েছে। কিন’ পরিকল্পনাহীন যত্রতত্র বালু উত্তোলন পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করা হলেও এর বির্বদ্ধে ব্যবস’া নিতে দেখা যায় না।
আমরা বলতে চাই, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও নদী ভাঙনরোধে এখন থেকেই অবৈধ বালু বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নিতে হবে।

শর্টলিংকঃ